কলকাতা: আইপিএল ২০২৬ (IPL 2026) শুরুর আগেই চোট সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। মরশুমের প্রথম তিনটি ম্যাচ পেরোতেই সেই দুর্দশা যেন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। একদিকে যেমন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটার চোটের কারণে দলের বাইরে, অন্যদিকে যাঁরা খেলছেন, তাঁদের মধ্যেও অনেকেই ফর্মে নেই। ফলে দল গঠন থেকে ম্যাচ পরিকল্পনা—সব ক্ষেত্রেই চাপে পড়তে হচ্ছে নাইট শিবিরকে।
চোটের তালিকাটা বেশ দীর্ঘ। হর্ষিত রানা ও আকাশ দীপের মতো বোলাররা এখনও মাঠের বাইরে। এই দু’জনের অনুপস্থিতিতে বোলিং আক্রমণ অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার ওপর সুনীল নারিন ও বরুণ চক্রবর্তীর মতো অভিজ্ঞ স্পিনারদের ফর্মহীনতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সাধারণত এই দুই স্পিনারই মাঝের ওভারে ম্যাচের রাশ টেনে ধরেন, কিন্তু এবারে তাঁদের সেই ধার দেখা যাচ্ছে না। ফলে প্রতিপক্ষ দলগুলো সহজেই রান তুলতে পারছে, আর কলকাতার বোলিং আক্রমণ কার্যত দিশাহীন হয়ে পড়ছে।
এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই দলের আশা ছিল তারকা পেসার মাথিশা পাথিরানার উপর। চোট সারিয়ে তিনি ধীরে ধীরে ফিটনেস ফিরে পাচ্ছেন, এমন খবরেই কিছুটা স্বস্তি পেয়েছিল নাইট শিবির। কিন্তু সেই আশাতেও জল ঢেলেছে নতুন জটিলতা। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড এখনও পর্যন্ত তাঁকে আইপিএলে খেলার ছাড়পত্র দেয়নি। ফলে তাঁর কেকেআর দলে যোগ দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। এই সমস্যার মূল কারণ শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের নতুন নিয়ম। বোর্ড পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, কোনও ক্রিকেটারকে বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলতে গেলে আগে কঠোর ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
এই পরীক্ষার মধ্যে রয়েছে স্প্রিন্ট টেস্ট, অ্যাজিলিটি ড্রিল-সহ একাধিক শারীরিক সক্ষমতার মূল্যায়ন। এই সমস্ত ধাপ সফলভাবে পেরোতে পারলেই দেওয়া হবে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ বা এনওসি। বর্তমানে শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় চুক্তিতে থাকা ৪৫ জন ক্রিকেটারের মধ্যে মাত্র ২৪ জন এই ফিটনেস পরীক্ষায় পাশ করেছেন। বাকি ১৫ জন এখনও পর্যন্ত সফল হননি, আর সেই তালিকাতেই রয়েছেন পাথিরানা। ফলে তিনি এখনও এনওসি পাননি এবং আইপিএলে অংশগ্রহণের অনুমতিও মেলেনি।
তবে সম্পূর্ণ হতাশ হওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। জানা যাচ্ছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই পাথিরানার ফিটনেস টেস্ট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদি তিনি সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেন, তাহলে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময় নাগাদ কেকেআর শিবিরে যোগ দিতে পারেন এই ডানহাতি পেসার। তাতে অবশ্য কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরবে দলের বোলিং বিভাগে। উল্লেখ্য, এবারের নিলামে বিপুল অর্থ খরচ করে তাঁকে দলে নিয়েছিল কলকাতা। প্রায় ১৮ কোটি টাকায় কেনা এই পেসারকে ঘিরে প্রত্যাশাও ছিল তুঙ্গে।
কিন্তু টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন কাফ মাসলে চোট পাওয়ায় শুরু থেকেই সমস্যায় পড়েন তিনি। এখন সেই চোট কাটিয়ে ধীরে ধীরে বোলিংয়ের চাপ বাড়ালেও, প্রশাসনিক জটিলতার কারণে তাঁর মাঠে নামা এখনও অনিশ্চিত। সব মিলিয়ে, চোট ও অনিশ্চয়তার জালে জড়িয়ে পড়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। পাথিরানার পরিস্থিতি আরও একবার বুঝিয়ে দিল, শুধু মাঠের লড়াই নয়—মাঠের বাইরের নানা সিদ্ধান্তও কতটা প্রভাব ফেলতে পারে একটি দলের পারফরম্যান্সে। এখন নাইট সমর্থকদের চোখ একটাই দিকে—কবে সব সমস্যা কাটিয়ে পূর্ণ শক্তিতে মাঠে নামবে তাদের প্রিয় দল।




















