কলকাতা: বিধানসভার বহুল চর্চিত ‘সই জাল’ মামলার তদন্তে নতুন মোড়। (Abhishek Banerjee)সোমবার বিকেলে পশ্চিমবঙ্গ সিআইডির একটি বিশেষ দল তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছনোয় রাজ্য রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তদন্তের স্বার্থে গোয়েন্দারা তাঁর বাড়ি ঘিরে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ভিডিওগ্রাফির কাজও শুরু করেন বলে সূত্রের খবর।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে, কারণ এর কয়েক ঘণ্টা আগেই সিআইডির তলব এড়িয়ে যান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। জানা গিয়েছে, রবিবার বেলা ১২টায় তাঁকে ভবানী ভবনে হাজির হয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছিল। তবে সোনারপুরে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় আহত হওয়ার কারণে তিনি উপস্থিত থাকতে পারবেন না বলে সিআইডিকে জানান। তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে তদন্তকারী সংস্থার কাছে ১৫ দিনের সময়ও চাওয়া হয়।
আরও দেখুনঃ ধরনা ছেড়ে পদযাত্রা! ছাব্বিশের ধাক্কা সামলে ফের ‘পথের নীতিতে’ মমতা
সূত্রের দাবি, সোনারপুরের ঘটনায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোয়ালে ব্যথা এবং শরীরের একাধিক জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সেই কারণেই চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে তিনি ভবানী ভবনে হাজিরা দিতে পারেননি বলে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য। কিন্তু তার পরেই বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ সিআইডির একটি দল সরাসরি তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে পৌঁছে যাওয়ায় রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বেড়ে যায়।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, এদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির বিভিন্ন অংশের ভিডিও রেকর্ডিং করা হয়েছে। পাশাপাশি মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত নথিপত্র ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহের কাজও চলে। যদিও সিআইডির তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে তদন্তের স্বার্থেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি একটি গুরুতর বিতর্ক সামনে আসে। অভিযোগ, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার জন্য বিধানসভায় যে চিঠি ও রেজোলিউশন বুক জমা দেওয়া হয়েছিল, সেখানে একাধিক বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। নয়ন বন্দ্যোপাধ্যায়, বাহারুল ইসলাম-সহ প্রায় ১৩ জন বিধায়ক দাবি করেন, তাঁদের অনুমতি ছাড়াই তাঁদের নাম ও স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে বিধানসভার সচিব একটি এফআইআর দায়ের করেন। সেই অভিযোগের তদন্তভার দেওয়া হয় সিআইডিকে। মামলাটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত স্পর্শকাতর হওয়ায় শুরু থেকেই গোটা বিষয়টি ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির অংশ হিসেবেই গত ৩০ মে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল। তাঁকে মূল রেজোলিউশন বুক-সহ একাধিক নথি জমা দিতে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হতে বলা হয়েছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই তদন্ত এখন শুধুমাত্র একটি স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং এটি রাজ্যের বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎ এবং তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির সঙ্গেও জড়িয়ে গিয়েছে। ফলে তদন্তের প্রতিটি পদক্ষেপই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
অন্যদিকে, তৃণমূলের একাংশের দাবি, তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও বিরোধী শিবিরের বক্তব্য, অভিযোগ ওঠার পর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়াই স্বাভাবিক। এই পরিস্থিতিতে সিআইডির পরবর্তী পদক্ষেপ এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য জিজ্ঞাসাবাদ এখন রাজ্য রাজনীতির অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।




















