কলকাতা: ভোটের ঠিক আগের দিন নদিয়ার কৃষ্ণনগরে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হল ভোটকর্মীদের বিক্ষোভকে ঘিরে। (Krishnanagar)কৃষ্ণনগরের সিএমএস স্কুলে তৈরি হওয়া ডিসিআরসি (ডিস্ট্রিবিউশন অ্যান্ড রিসিভিং সেন্টার)-এ সকাল থেকেই জমতে শুরু করে উত্তেজনা। ভোটের সামগ্রী সংগ্রহ করতে এসে বহু কর্মী অভিযোগ করেন, তাঁদের নির্ধারিত ভাতা সম্পূর্ণ দেওয়া হচ্ছে না। আর সেই অভিযোগ থেকেই শুরু হয় বিক্ষোভ, যা কিছুক্ষণের মধ্যেই বড় আকার ধারণ করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সকাল থেকেই ক্যাশ কাউন্টারের সামনে দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। একে একে কর্মীরা টাকা নিতে গিয়ে বুঝতে পারেন, তাঁদের প্রাপ্য অর্থের তুলনায় কম টাকা দেওয়া হচ্ছে। তখনই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। কেউ কেউ সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, “নির্বাচন কমিশন যে পরিমাণ ভাতা নির্ধারণ করেছে, তা যদি না পাই, তাহলে কীভাবে এত বড় দায়িত্ব পালন করব?” এই প্রশ্ন থেকেই শুরু হয় বচসা, যা দ্রুতই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে পৌঁছে যায়।
আরও দেখুনঃ জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যুদ্ধজাহাজ কিনবে আমেরিকা, কেন এই সিদ্ধান্ত?
পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, একাধিক ভোটকর্মী সাফ জানিয়ে দেন পুরো টাকা না পেলে তাঁরা কোনওভাবেই বুথে যাবেন না। তাঁদের এই অবস্থান প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়, কারণ ভোটের আগের মুহূর্তে কর্মীদের অনুপস্থিতি পুরো প্রক্রিয়াকেই ব্যাহত করতে পারে। ফলে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য মাঠে নামে প্রশাসন। স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন।
আরও দেখুনঃ ১৫ বছরের মমতা শাসন কি শুধুই সাম্প্রদায়িক? ভোটের মুখে বিস্ফোরক শুভেন্দু
তাঁরা আশ্বাস দেন যে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং যদি কোনও গরমিল থেকে থাকে, তা দ্রুত ঠিক করা হবে। যদিও প্রথমদিকে এই আশ্বাসে খুব একটা সন্তুষ্ট হননি কর্মীরা। তাঁদের দাবি ছিল, লিখিতভাবে নিশ্চয়তা দিতে হবে এবং অবিলম্বে বকেয়া টাকা মিটিয়ে দিতে হবে। এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, ভোট পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কর্মীদের মধ্যে আর্থিক অসন্তোষ থাকলে তা কতটা বড় সমস্যার কারণ হতে পারে।
আরও দেখুনঃ শিলিগুড়ি থেকে সস্ত্রীক গ্রেফতার জাহাঙ্গীর
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভোটের মতো সংবেদনশীল প্রক্রিয়ায় প্রতিটি ধাপ সঠিকভাবে সম্পন্ন হওয়া জরুরি। সেখানে যদি কর্মীদের প্রাপ্য ভাতা নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তাহলে তা গোটা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এদিকে, স্থানীয়দের একাংশের মতে, এই ধরনের ঘটনা প্রশাসনিক প্রস্তুতির ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়। তাঁদের কথায়, “ভোটের আগে সব কিছু ঠিকঠাক করে রাখা উচিত ছিল। এখন যদি শেষ মুহূর্তে এমন সমস্যা হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ে।” তবে অনেকেই আবার আশাবাদী, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করবে।




















