কলকাতা: বিধানসভা নির্বাচনের হাই-ভোল্টেজ প্রচার পর্বে রাজ্যের মা-বোনেদের দেওয়া বড় প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে চলেছে নতুন বিজেপি সরকার। আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে পথ চলা শুরু করছে ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’ প্রকল্প। এই প্রকল্পের আওতায় এবার থেকে প্রতি মাসে রাজ্যের মহিলারা ৩ হাজার টাকা করে সরাসরি নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাবেন। ক্যাবিনেট বৈঠকের পর এই মেগা প্রকল্পের রূপরেখা স্পষ্ট করে দিয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। (Annapurna Yojana West Bengal)
কারা পাবেন এই সুবিধা? লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রাপকদের কী হবে?
মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল স্পষ্ট জানিয়েছেন, যাঁরা আগে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা পেতেন, তাঁদের ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’র টাকা পাওয়ার জন্য নতুন করে কোনও আবেদন করার প্রয়োজন নেই। পূর্বতন অ্যাকাউন্টের সঙ্গেই যুক্ত করে দেওয়া হবে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার। ২৫ থেকে ৬০ বছর বয়সী মহিলারা এই সুবিধা পাবেন এবং তাঁদের আধারের সঙ্গে লিঙ্কড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে ট্রান্সফার করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে, যাঁরা আগে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পেতেন না, তাঁদের জন্য আগামী ১ জুন থেকেই খুলে দেওয়া হচ্ছে নতুন ‘অন্নপূর্ণা যোজনা পোর্টাল’ (Annapurna Yojana Portal), যেখানে গিয়ে নতুন করে নাম নথিভুক্ত করা যাবে।
৬০ বছর পেরোলে কী হবে?
অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠছে, যাঁদের বয়স ৬০ বছর পেরিয়ে গিয়েছে, তাঁরা কি এই আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন? সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে সেই জটও কাটানো হয়েছে। নিয়মানুযায়ী, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের কোনও প্রাপকের বয়স ৬০ বছর পেরোলেই তাঁর নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা স্বাভাবিক নিয়মে বার্ধক্যভাতার তালিকায় স্থানান্তরিত হয়ে যাবে। এর জন্য প্রবীণ নাগরিকদের কোনও সরকারি দফতরে গিয়ে আলাদা করে আবেদন করতে হবে না।
বার্ধক্যভাতাও এবার দ্বিগুণ!
প্রবীণ নাগরিকদের জন্য আরও একটি বড় ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। শুধু মহিলাদের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারই নয়, আগামী ১ জুন থেকে রাজ্যে বার্ধক্যভাতাও একধাক্কায় দ্বিগুণ হতে চলেছে। বর্তমানে প্রবীণ নাগরিকরা মাসে ১ হাজার টাকা করে বার্ধক্যভাতা পেয়ে থাকেন, নতুন সরকারি সিদ্ধান্তে ১ জুন থেকে তা বেড়ে হচ্ছে মাসে ২ হাজার টাকা। অর্থাৎ, ২৫ থেকে ৬০ বছর পর্যন্ত মহিলারা পাবেন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’-এর ৩ হাজার টাকা এবং ৬০ বছর পেরোলেই তাঁরা চলে আসবেন প্রতি মাসে ২ হাজার টাকার বার্ধক্যভাতার আওতায়। সরকারের এই জোড়া মাস্টারস্ট্রোকে স্বাভাবিকভাবেই খুশির হাওয়া রাজ্যের মহিলা ও প্রবীণ মহলে।




















