বিট্টু দত্ত, কলকাতা: ইস্টবেঙ্গলের আইএসএল স্বপ্নের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ইন্টার কাশী। আর সেই দলের ডাগআউটে দাঁড়িয়ে আছেন প্রাক্তন ইস্টবেঙ্গল গোলরক্ষক অভিজিৎ মণ্ডল। কয়েক দিন আগেই মোহনবাগানকে আটকে দিয়ে তিনি সবুজ-মেরুন সমর্থকদের চোখে নায়ক হয়ে উঠেছিলেন। এবার একই আশায় বুক বাঁধছেন মোহনবাগান সমর্থকেরা। কারণ বৃহস্পতিবার ইস্টবেঙ্গল যদি ইন্টার কাশীর বিরুদ্ধে পয়েন্ট খোয়ায় এবং মোহনবাগান এসসি দিল্লিকে হারাতে পারে, তাহলে লিগ শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যাবে জেমি ম্যাকলারেনদের।
একসময় যে অভিজিৎ ইস্টবেঙ্গলের গোলপোস্ট আগলে মাঠে নামতেন, আজ তিনিই প্রতিপক্ষের কোচ। তাঁর ইস্টবেঙ্গলে আসার গল্পও কম নাটকীয় নয়। তখন তিনি ইউনাইটেড স্পোর্টসের হয়ে খেলছেন। কলকাতা লিগের শেষ দিনে যুবভারতীতে ইস্টবেঙ্গল বড় ব্যবধানে মহমেডান স্পোর্টিংকে হারিয়ে শিরোপা জেতে। একই সময়ে শিলিগুড়িতে মোহনবাগানকে হারায় ইউনাইটেড স্পোর্টস। সেই জয়েই নজরে চলে আসেন অভিজিৎ।
কিন্তু লিগ জয়ের আনন্দের মধ্যেই ইস্টবেঙ্গলে শুরু হয় অন্দরের টানাপোড়েন। কোচ ট্রেভর জেমস মরগ্যান আচমকাই পদত্যাগ করেন। শোনা যায়, দল গঠন নিয়ে মতভেদের কারণেই তিনি সরে দাঁড়ান। সেই সময়ই নাকি অভিজিৎকে দলে নেওয়ার পরিকল্পনা চলছিল। পাশাপাশি অভিজ্ঞ গোলরক্ষক সন্দীপ নন্দীকেও সরানোর ভাবনা ছিল ক্লাবের। পরে নন্দী চার্চিল ব্রাদার্সে যোগ দেন এবং ইস্টবেঙ্গলের ভরসা হয়ে ওঠেন অভিজিৎ মণ্ডল। প্রথম বছরেই ফেডারেশন কাপ জিতে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন তিনি।
এখন তিনি কোচের ভূমিকায়। আন্তোনিও লোপেজ হাবাস দায়িত্ব ছাড়ার পর ইন্টার কাশীর দায়িত্ব পান অভিজিৎ। অল্প সময়ের মধ্যেই দলকে সংগঠিত করেছেন তিনি। বড় দলগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করে বুঝিয়ে দিয়েছেন, ইন্টার কাশী সহজ প্রতিপক্ষ নয়। ইস্টবেঙ্গল ম্যাচের আগে তাঁর আত্মবিশ্বাসও স্পষ্ট।
অভিজিৎ জানিয়েছেন, কোনও চাপই অনুভব করছেন না তিনি বা তাঁর ফুটবলাররা। বরং মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ভালো ফল করার পর দলের আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে। তাঁর কথায়, আগে খুব কম মানুষই ইন্টার কাশীর ফুটবলারদের চিনত। কিন্তু এখন এই ম্যাচ ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে, তা ফুটবলারদের বাড়তি অনুপ্রেরণা দিচ্ছে। প্রত্যেকেই জানে, বড় ম্যাচে ভালো খেলতে পারলে আগামী মরশুমে আরও ভালো সুযোগ আসবে।
এই ম্যাচ নিয়ে উন্মাদনা কতটা, সেটাও বোঝা যাচ্ছে টিকিটের চাহিদা থেকেই। বুধবার রাত পর্যন্ত নিজের জন্যও টিকিট জোগাড় করতে পারেননি অভিজিৎ। পরিচিতদের কাছ থেকেও নিয়মিত টিকিটের অনুরোধ পাচ্ছেন তিনি।
তবে হাবাসের জায়গায় এসে নিজেকে প্রমাণ করার চাপ অনুভব করছেন কি না, সেই প্রশ্নে অভিজিতের উত্তর যথেষ্ট পরিণত। তিনি বলেছেন, এখন তিনি শুধুই স্টপগ্যাপ কোচ। দীর্ঘ দৌড়ে টিকে থাকতে হলে নিজেকে আরও তৈরি করতে হবে। তবে এটাও জানেন, ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের মতো বড় ম্যাচে ভালো ফল করলে সারা দেশের নজর কাড়া যায়। সেই কথাই নিজের ফুটবলারদেরও বুঝিয়েছেন তিনি।




















