Warship: মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ (পেন্টাগন) যুদ্ধজাহাজ তৈরির পদ্ধতিতে একটি বড় পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে। তারা জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে যুদ্ধজাহাজের নকশা ও নির্মাণকাজ করিয়ে নেওয়ার কথা বিবেচনা করছে। এই উদ্দেশ্যে ১.৮৫ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৭,৪২৭ কোটি টাকা) ব্যয়ের একটি সমীক্ষা পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছে, যা ২০২৭ সালের বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই সমীক্ষায় খতিয়ে দেখা হবে যে জাপানের মোগামি ক্লাস এবং দক্ষিণ কোরিয়ার দেগু ক্লাসের মতো আধুনিক জাহাজগুলো এই দেশগুলোর সহযোগিতায় গ্রহণ বা নির্মাণ করা যেতে পারে কিনা। পেন্টাগনের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো মার্কিন নৌবাহিনীর উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা। মার্কিন নৌবাহিনী বর্তমানে বিলম্ব, শ্রমিকের অভাব এবং ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের মতো চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে।
চীনের সাথে প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি
এই পরিকল্পনা সফল হলে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথমবার যুক্তরাষ্ট্র অন্য কোনো দেশ থেকে বড় যুদ্ধজাহাজ ক্রয় করবে। এর একটি প্রধান কারণ হলো, চীন প্রতি বছর ছয় থেকে দশটি ডেস্ট্রয়ার নির্মাণ করছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র অনেক পিছিয়ে থেকে মাত্র চারটি নির্মাণ করছে।
জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া যুদ্ধজাহাজের বৈশিষ্ট্য
জাপানের মোগামি-শ্রেণির যুদ্ধজাহাজগুলো প্রায় ৫,৫০০ টন ওজনের এবং এতে উন্নত স্টেলথ প্রযুক্তি ও অত্যাধুনিক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার দেগু-শ্রেণির যুদ্ধজাহাজগুলো প্রায় ৩,৬০০ টন ওজনের এবং এতে স্বল্প-শব্দের ইঞ্জিন ব্যবস্থা রয়েছে। উভয় জাহাজই আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড এমকে-৪১ উল্লম্ব উৎক্ষেপণ ব্যবস্থায় সজ্জিত।
একটি মোগামি-শ্রেণির জাহাজের খরচ প্রায় ৫০ কোটি ডলার এবং এটি দুই বছরে সম্পন্ন করা যায়। এর তুলনায়, মার্কিন কনস্টেলেশন-শ্রেণির ফ্রিগেটগুলোর খরচ ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি এবং এগুলোর নির্মাণকাজ বেশ কয়েক বছর বিলম্বিত হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়াও জাপানের কাছে অর্ডার দিয়েছে
অস্ট্রেলিয়া মোট ১৪.৪ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ১১টি মোগামি-শ্রেণির জাহাজের অর্ডার দিয়েছে। এই জাহাজগুলোর মধ্যে তিনটি জাপানে এবং বাকিগুলো অস্ট্রেলিয়ায় তৈরি করা হবে। প্রথম জাহাজটি ২০২৯ সালের মধ্যে সরবরাহ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই পরিকল্পনার সমস্যাটা কী?
মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, নৌবাহিনীর জরুরি ভিত্তিতে আরও জাহাজ প্রয়োজন। দেশীয় সংস্থাগুলো যদি সময়মতো জাহাজ তৈরি করতে না পারে, তবে তারা অন্য দেশের সাহায্য চাইতে পারে। তবে, এই পরিকল্পনাটি উল্লেখযোগ্য আইনি ও রাজনৈতিক বাধার সম্মুখীন। মার্কিন আইন অনুযায়ী, নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার জন্য নৌবাহিনীর জাহাজ দেশীয়ভাবে নির্মাণ করা বাধ্যতামূলক।
এমন পরিস্থিতিতে, বিদেশে নির্মাণকাজের জন্য রাষ্ট্রপতির বিশেষ অনুমোদনের প্রয়োজন হবে এবং এটি বিরোধিতার সম্মুখীন হতে পারে। একটি সমাধান প্রস্তাব করা হয়েছে: বিদেশি সংস্থাগুলো আমেরিকার জাহাজ নির্মাণ কারখানায় বিনিয়োগ করে আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে সেগুলোকে উন্নত করবে। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান জাহাজ নির্মাণ সংস্থা হানওয়া ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় একটি জাহাজ নির্মাণ কারখানা কিনেছে এবং উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে।




















