কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-কে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই চরমে উঠছে। (Suvendu Adhikari)এর মধ্যেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা এবং নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
একটি জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের হাতে জনমুখী কোনও ইস্যু নেই, তাই তারা শুধুমাত্র সাম্প্রদায়িক রাজনীতির আশ্রয় নিচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিধানসভায় ‘মহাকুম্ভ’ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্য হিন্দু সমাজকে আঘাত করেছে। তাঁর কথায়, “কোনও মুসলিম এই অনুষ্ঠানকে ‘মিথ কুম্ভ’ বলেননি, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেছেন, যা অযৌক্তিক এবং অপ্রয়োজনীয়।”
আরও দেখুনঃ বায়ুসেনাতে টাইপিস্ট এবং ড্রাইভার পদে নিয়োগ, এখনই আবেদন করুন
তিনি আরও বলেন, অযোধ্যার রাম মন্দিরের উদ্বোধনের দিন দেশের প্রায় সব রাজনৈতিক দলের হিন্দু সদস্যরা আনন্দ প্রকাশ করেছিলেন, কিন্তু একমাত্র আপত্তি ছিল মুখ্যমন্ত্রীর। শুভেন্দুর অভিযোগ, এই ধরনের মন্তব্য বারবার করে তিনি একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে আঘাত করছেন এবং রাজনৈতিক ফায়দা তোলার চেষ্টা করছেন।
#WATCH | West Bengal elections 2026 | State LoP and BJP candidate from Nandigram and Bhabanipur Assembly constituencies, Suvendu Adhikari says, “We are going to win at least over 170 seats…”
On CM’s face, he says, “The party campaigned under the leadership of PM Modi; and… pic.twitter.com/EEQ5frkoQO
— ANI (@ANI) April 28, 2026
এছাড়াও, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ নিয়ে তৃণমূলের অবস্থানকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি। তাঁর দাবি, সিএএ-কে এনআরসি হিসেবে তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে এবং এর ফলে রাজ্যে অশান্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “কোনও ব্যক্তি বা কোনও সম্প্রদায় থেকে একজনের নাম দিন, যাকে সিএএ-র কারণে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছে?” তাঁর মতে, এই ইস্যুতে ভুল তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী আরও অভিযোগ করেন, মুর্শিদাবাদে ওয়াকফ সংশোধনী আইনকে কেন্দ্র করে হিন্দু গ্রামগুলিতে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল এবং সেই সময়ে প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা নেয়নি। তিনি দাবি করেন, ওই সময় এক সিপিআই(এম) সমর্থকের মৃত্যুর ঘটনাতেও কোনও সঠিক তদন্ত হয়নি, যা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
নিজের বক্তব্যে তিনি আরও একধাপ এগিয়ে বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু মন্দির ও দেবদেবীর মূর্তি ভাঙার ঘটনা ঘটেছে, যা প্রশাসনের ব্যর্থতাকে সামনে আনে। তাঁর অভিযোগ, এই সব ঘটনা একটি বিশেষ মতাদর্শের প্রভাবেই ঘটছে, যা রাজ্যের সামাজিক সম্প্রীতির পক্ষে বিপজ্জনক।
তবে শুভেন্দুর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা পাল্টা দাবি করেছেন, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরি করে ভোটে ফায়দা তুলতে চাইছে। তাঁদের মতে, এই ধরনের বক্তব্য রাজ্যের শান্তি ও সম্প্রীতির পক্ষে ক্ষতিকর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই রাজনৈতিক বক্তব্যের তীব্রতা বাড়ছে। একদিকে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, অন্যদিকে জনমুখী ইস্যু সব মিলিয়ে ভোটের আগে পরিবেশ ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের কাছে মূল প্রশ্ন, উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কাজের মূল্যায়ন কতটা গুরুত্ব পাবে।



















