কলকাতা: ভারতের মাটিতে বসে পাকিস্তানের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি! ফের একবার খাস কলকাতা থেকে এক কুখ্যাত পাকিস্তানি চরকে গ্রেফতার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ (NIA)। ধৃত ব্যক্তির নাম জাফর রিয়াজ় ওরফে রিজ়ভি। কলকাতা বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে পাকড়াও করার পর ইতিমধ্যেই নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। ধৃতের থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, বিগত কয়েক বছর ধরে সে পাকিস্তানেই কাটাচ্ছিল। কিন্তু কী উদ্দেশ্যে সে কলকাতায় এসে গা ঢাকা দিয়েছিল, এখন সেটাই জানার চেষ্টা করছেন আধিকারিকরা। (NIA arrests Pakistani spy in Kolkata)
মুর্শিদাবাদ যোগ এবং ওটিপি পাচারের রহস্য
এনআইএ সূত্রে খবর, এই মেগা অপারেশনের সূত্রপাত হয়েছিল কয়েক মাস আগে মুর্শিদাবাদ থেকে এক যুবকের গ্রেফতারির পর। ভারতীয় সিম কার্ড ব্যবহার করে সীমান্তে ওপারে ওটিপি (OTP) পাঠানোর অভিযোগে তাকে পাকড়াও করেছিল পুলিশ। সেই মামলার তদন্তভার হাতে নেওয়ার পরেই গোয়েন্দাদের নজরে আসে জাফর রিয়াজের নাম।
তদন্তে জানা গিয়েছে, ভারতে সক্রিয় থাকা বিভিন্ন মোবাইল নম্বরের ওটিপি পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ‘আইএসআই’ (ISI)-এর হাতে পৌঁছে দিত জাফর। আর সেই গোপন ওটিপি ব্যবহার করেই পাকিস্তানের মাটিতে বসেই ভারতীয় নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট সক্রিয় করত পাক গোয়েন্দারা। এই অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহার করে ভারতে বড়সড় নাশকতা বা চরবৃত্তির জাল ছড়ানো হতো বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
ইসলামাবাদের নাগরিকত্ব ও মোটা অঙ্কের টোপ
জাফর রিয়াজের অতীত ঘাঁটতে গিয়ে এনআইএ-র হাতে এসেছে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, গত ২০০৫ সালে প্রথমবার পাকিস্তানে গিয়েছিল জাফর। সেখানে সে বিয়েও করে। এরপর বিগত কয়েক বছর সে স্থায়ীভাবে পাকিস্তানেই বসবাস করছিল। সম্প্রতি সে ভারতে ফিরে এসে ছদ্মনামে ঘুরছিল এবং ভারতীয় প্রতিরক্ষাজনিত একাধিক গোপন তথ্য সরাসরি রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদে পাচার করছিল। এই কাজের বিনিময়ে তাকে মোটা অঙ্কের টাকা এবং পাকিস্তানের স্থায়ী নাগরিকত্ব পাইয়ে দেওয়ার টোপ দেওয়া হয়েছিল বলে জানতে পেরেছেন আধিকারিকরা।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা খবর পান, বেগতিক বুঝে কলকাতা বিমানবন্দর সংলগ্ন একটি এলাকায় আত্মগোপন করে রয়েছে জাফর। এরপরই এনআইএ-র একটি বিশেষ টিম গোপনে হানা দিয়ে রিজভিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করে। এই চক্রের সাথে এরাজ্যের আর কোনও বড় মাথা জড়িয়ে রয়েছে কি না, তা জানতে ধৃতকে জেরা করা হচ্ছে।



















