পুলিশ হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত দেবরাজ চক্রবর্তীকে (Debraj Chakraborty) কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই বারাসত আদালতে পেশ করা হয়। আদালত চত্বরে তাঁকে নিয়ে আসার পর তদন্তকারী সংস্থা এবং প্রতিরক্ষা উভয় পক্ষই নিজেদের যুক্তি তুলে ধরে। শুনানি শেষে দেবরাজের আইনজীবী জামিনের আবেদন জানালেও আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে দুটি পৃথক মামলায় ফের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, একটি মামলায় দেবরাজ চক্রবর্তীকে (Debraj Chakraborty) সাত দিনের এবং অন্য একটি মামলায় ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী কয়েকদিন তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে নিজেদের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ চালাতে পারবে। তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ এবং মামলার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখার জন্যই এই হেফাজতের প্রয়োজন বলে আদালতে দাবি করে তদন্তকারী সংস্থা।
শুনানির সময় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, মামলার তদন্ত এখনও গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। একাধিক তথ্য ও নথি যাচাই করা বাকি রয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের ভূমিকা, আর্থিক লেনদেন, যোগাযোগের সূত্র এবং বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ মিলিয়ে দেখার জন্য অভিযুক্তকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন রয়েছে। সেই কারণেই পুলিশ হেফাজতের আবেদন করা হয়।
অন্যদিকে, দেবরাজ চক্রবর্তীর আইনজীবী আদালতে জামিনের আবেদন জানিয়ে দাবি করেন, তাঁর মক্কেল তদন্তে সহযোগিতা করছেন এবং দীর্ঘ সময় ধরে পুলিশি হেফাজতে রাখার কোনও যৌক্তিকতা নেই। তিনি আদালতের কাছে জামিনের আবেদন মঞ্জুর করার আর্জি জানান। তবে তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেনি। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তদন্ত এখনও অসম্পূর্ণ এবং এই পর্যায়ে জামিন দিলে তদন্তে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
দুটি পৃথক মামলায় আলাদা সময়ের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেওয়ায় তদন্তকারী সংস্থা এখন বিভিন্ন দিক থেকে দেবরাজ চক্রবর্তীকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সুযোগ পাবে। তদন্তে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, কিংবা অন্য কারও সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ মেলে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে।
এদিকে আদালতের এই নির্দেশের পর মামলাকে ঘিরে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থা জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হবে এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।




