‘পুলিশকে তৃণমূলের পায়ে পড়তে হবে!’ হুমকি মদনের

কলকাতা: কলকাতার উপকণ্ঠ কামারহাটিতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মদন মিত্রের একটি বক্তব্য রাজ্যজুড়ে তুমুল বিতর্কের ঝড় তুলেছে (Madan Mitra)। সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে জনরোষ যখন…

madan-mitra-police-remark

কলকাতা: কলকাতার উপকণ্ঠ কামারহাটিতে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক মদন মিত্রের একটি বক্তব্য রাজ্যজুড়ে তুমুল বিতর্কের ঝড় তুলেছে (Madan Mitra)। সাম্প্রতিক সময়ে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে জনরোষ যখন ক্রমশ বাড়ছে এবং আইনের শাসন ও জবাবদিহিতার দাবি জোরালো হচ্ছে, ঠিক তখনই মদন মিত্রের এই মন্তব্য অনেকের কাছে রাজনৈতিক অহংকার ও দম্ভের চরম উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

বিধায়ক মদন মিত্র স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF)-কে উদ্দেশ্য করে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, CAPF-এর সুরক্ষা চিরকাল থাকবে না। কামারহাটিতে কাজ করতে হলে পুলিশকে তৃণমূল কংগ্রেসের ‘পায়ে পড়তে হবে’ বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই বক্তব্য রেকর্ড হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে এবং এই মন্তব্যেই শুরু হয়েছে বিতর্কের ঝড়।

Advertisements

আরও দেখুনঃ LOC পেরিয়ে ভারতে প্রেম করতে এসে সেনার হাতে আটক POK র যুবক

অনেকে এটাকে শুধু একজন বিধায়কের ব্যক্তিগত কথা বলে উড়িয়ে দিতে চাইলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই মন্তব্য তৃণমূলের রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি বড় অংশকে প্রকাশ করে। দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে কিছু নেতা নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে ভাবতে শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠছে। মদন মিত্রের এই হুঁশিয়ারি পুলিশ বাহিনীর স্বাধীনতা ও মর্যাদার উপর সরাসরি আঘাত বলে মনে করছেন অনেকে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাজ্যে নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ জমে উঠেছে চাকরি কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ নিয়ে। এই পরিস্থিতিতে মদন মিত্রের মতো একজন প্রভাবশালী নেতার এমন বক্তব্য জনরোষকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, “একজন জনপ্রতিনিধি যদি পুলিশকে এভাবে হুমকি দেন, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় বিচার পাবে?”পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কামারহাটি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অনেকের মতে, এই বাহিনী থাকায় কিছু অপরাধীদের উপর নিয়ন্ত্রণ আসছে। মদন মিত্রের বক্তব্যে সেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকেও চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তিনি বলেছেন, এই সুরক্ষা চিরকাল থাকবে না এবং শেষ পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসনকে তৃণমূলের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে।