রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে উদ্ভূত সমস্যা ক্রমশ জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। ইউক্রেনের উপর আক্রমণ চালানোর ব্যাপারে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কার্যত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। রাশিয়াকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার জন্য অনুরোধ করেছে আমেরিকা। কিন্তু সেই অনুরোধে কর্ণপাত করেননি পুতিন। তাই এবার অনুরোধের রাস্তা থেকে সরে এসে রাশিয়াকে সরাসরি হুমকি দিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস।
কমলা বলেন, ইউক্রেন আক্রমণ করলে রাশিয়াকে চরম আর্থিক মূল্য চোকাতে হবে। সরাসরি রাশিয়ার ওপর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চাপানোর হুমকি দেন কমলা। একইসঙ্গে ইউক্রেনকে রক্ষা করার ব্যাপারে আমেরিকা ও তার সহযোগী দেশগুলি বদ্ধপরিকর বলে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জানিয়ে দেন। রাশিয়ার আক্রমণের হাত থেকে ইউক্রেনকে বাঁচানোর জন্য আমেরিকা প্রতিশ্রুতি দিলেও যথেষ্টই আতঙ্কে রয়েছেন ইউক্রেন।
সে দেশের প্রেসিডেন্ট ভোলদিমির জেলেনস্কির গলায় ছিল কার্যত আত্মসমর্পণের সুর। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, রাশিয়ার শীর্ষ নেতারা যখন যেখানে আলোচনার জন্য ডাকবেন তিনি সেখানেই যেতে রাজি আছেন। সম্ভাব্য হামলার থেকে বাঁচতে পুতিনকে ফোনও করেন জেলেনস্কি। টেলিফোনে তিনি পুতিনকে ইউক্রেনের উপর হামলা না চালানোর অনুরোধ করেন বলে সংবাদ সংস্থা সিএনএন জানিয়েছে। মিউনিখে নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দিয়ে ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি নিজেও জানিয়েছেন, তিনি পুতিনকে ফোন করে ইউক্রেনে হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছেন। যদিও তাঁর অনুরোধের প্রেক্ষিতে পুতিন কোনও আশ্বাস দেননি।
আমেরিকা ছাড়াও জার্মানি, ফ্রান্স, ব্রিটেনও পুতিনকে ইউক্রেন আক্রমণ না করার পরামর্শ দিয়েছে। তবে সেই পরামর্শ কানে তোলার কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি পুতিনের মধ্যে। ইউক্রেনে যুদ্ধের সম্ভাবনা ক্রমশই উজ্জ্বল হওয়ায় ইতিমধ্যে ভারত, জার্মানি, ফ্রান্স ও অস্ট্রিয়া সে দেশে বসবাসকারী সংশ্লিষ্ট দেশের নাগরিকদের অবিলম্বে দেশে ফিরে আসার নির্দেশ জারি করেছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলির বিদেশমন্ত্রক ইউক্রেনে থাকা নাগরিকদের জানিয়েছে, আপনারা যত শীঘ্র সম্ভব ইউক্রেন ছেড়ে ঘরে ফিরুন।
ইউক্রেনে বসবাসরত পড়ুয়া-সহ সমস্ত ভারতীয়কে অবিলম্বে দেশে ফেরার জন্য রবিবার নির্দেশ দিয়েছে ভারতীয় দূতাবাস। অন্যদিকে ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, ১৯৪৫ সালের পর এক বড় মাপের যুদ্ধের পরিকল্পনা নিয়েছে রাশিয়া। বরিস বলেন, তাঁরা গোপন সূত্রে খবর পেয়েছেন রাশিয়া নিশ্চিতভাবেই কিয়েভ আক্রমণ করবে। তবে এতে উভয় পক্ষেরই ক্ষতি হবে। নিজেদের লাভ হবে বলে রাশিয়া মনে করলেও তা হবে না।




















