সোহিনী পোড়েল, কলকাতা: আজ বিশ্বজয়ের অন্যতম কারিগর যে ছেলেটা, সেই ছেলেটাই একটা সময় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে অভিযুক্ত হয়েছিলেন। ২০২৩ সালে মানসিক অসুস্থতার জন্য ক্রিকেট থেকে সাময়িক বিরতি নিয়েছিলেন ঈশান কিষাণ ( Ishan Kishan)। ২০২৪ সালের শুরুর দিকে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর রঞ্জি ট্রফি না খেলায় তাঁর সঙ্গে বার্ষিক চুক্তিভঙ্গ করেছিল বিসিসিআই। আইপিএলেও তেমন ফর্মে ছিলেন না। কিন্তু এখন তিনি বুঝিয়ে ইলেন এভাবেও ফিরে আসা যায়।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ চলাকালীন বাবাকে হারিয়ে ছিলেন রিঙ্কু সিং। দল ছেড়ে বাবার শেষকৃত্য করতে গিয়েছিলেন তিনি। ঠিক তেমনই তাঁর মতো নিকট আত্মীয়দের হারান ঈশান কিষাণ। বিশ্বকাপ ফাইনাল খেলার ৪৮ ঘন্টা আগে তাঁর কাছে খবর আসে গাড়ি দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে দিদি-জামাইবাবুর। সেই যন্ত্রণা বুকে চেপে টিম ইন্ডিয়াকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করার অন্যতম কারিগর তিনি।
বিশ্বকাপের ফাইনালে ২৫ বলে ৫৪ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলেন ঈশান কিষাণ। তাঁর ইনিংস সাজানো ছিল ৪ টি চার ও ৪ টি ছয় দিয়ে। স্কোরবোর্ডে ঈশানের ৫৪ রান না থাকলে হয়তো ভারত ২৫০ রানের গণ্ডি পেরতে পারত না। কিউইদের সামনে যে রানের পাহাড় খাঁড়া করেছিল টিম ইন্ডিয়া, এর পিছনে অন্যতম বড় ভূমিকা রয়েছে ঈশান কিষাণের। ৯৬ রানে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয় টিম ইন্ডিয়া।
রবিবার ফাইনালের আগে সংবাদমাধ্যমকে ঈশানের বাবা প্রণব জানিয়েছিলেন, “শুক্রবার মৃত্যু হয় ঈশানের দিদি ও তাঁর জামাইবাবুর। আমরা কেউই বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে যাব না। ঈশানও বাড়ি ফিরতে চেয়েছিল। কিন্তু ও দেশের হয়েই খেলবে।“ ম্যাচের আগে যথেষ্ট মনমরা লাগছিল ঈশানকে। যদিও এর প্রভাব খেলায় পড়তে দেননি তিনি। ২৫ বলে ৫৪ রানের ইনিংস দিদি-জামাইবাবুকে উৎসর্গ করেছেন ভারতের তরুণ তুর্কি ক্রিকেটার।




















