নয়াদিল্লি: ডাক্তারির প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET) ঘিরে দেশজুড়ে চলেছে আন্দোলন। এই আবহেই বড় সিদ্ধান্ত নিল সুপ্রিমকোর্ট। আন্দোলনের নাম করে পুলিশের উপর হামলা ও হিংসা একেবারে অগ্রহণযোগ্য বলে মন্তব্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করার সাংবিধানিক অধিকার সবার আছে, কিন্তু এর নামে অরাজকতা, পুলিশের উপর আক্রমণ বা সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।
আদালত দেশজুড়ে একটি সুস্পষ্ট প্রোটোকল তৈরির নির্দেশ দিয়েছে, যাতে প্রতিবাদ শান্তিপূর্ণ থাকে এবং একইসঙ্গে অসামাজিক উপাদানদের বিরুদ্ধে তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা নেওয়া যায়।সোমবার শুনানির সময় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই মন্তব্য করে। বিচারপতিরা বলেন, “মাত্র আন্দোলন করার কারণে পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করতে পারবে না, কিন্তু পুলিশের উপর হামলা চালানো তো একেবারেই অসহ্য। এটা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি।”
আরও দেখুনঃ সংসদে ঢুকতেই ধর্মেন্দ্রকে চোর স্লোগান! পাল্টা অভ্যর্থনা বিজেপির
আদালতের এই পর্যবেক্ষণ নিট পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে বিক্ষোভরত ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে এটিকে স্বাগত জানালেও, কেউ কেউ মনে করছেন এতে প্রতিবাদের স্বাধীনতা খর্ব হতে পারে।নিট পরীক্ষা নিয়ে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তীব্র আন্দোলন চলছে। ছাত্ররা পেপার লিক, নম্বর বৃদ্ধি ও অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ তুলে রাস্তায় নেমে এসেছে।
কয়েকটি রাজ্যে আন্দোলন হিংসায় রূপ নেয়। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হন, যানবাহন ভাঙচুর হয় এবং রেললাইন অবরোধ করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে পুলিশকে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে হয়। এই ঘটনাগুলো নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে প্রশাসন। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, প্রতিবাদ দমন করতে পুলিশ অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করছে কি না।
সুপ্রিম কোর্ট এই বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে। আদালত বলেছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু যারা এই অধিকারের আড়ালে হিংসা ছড়াতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। বিচারপতিরা কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন যে, একটি অল-ইন্ডিয়া প্রোটোকল তৈরি করতে হবে।
এতে প্রতিবাদের সময় পুলিশের দায়িত্ব, সীমা এবং প্রতিবাদকারীদের করণীয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। প্রোটোকলে বলা হয়েছে, পুলিশ প্রথমে সংলাপের পথে যাবে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেবে এবং শেষ অবলম্বন হিসেবে বল প্রয়োগ করবে। একইসঙ্গে, পুলিশের উপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতার ও মামলা দায়ের করতে হবে।
আরও দেখুনঃ যন্তরমন্তর শেষে এবার তামিলনাড়ুতে শুরু আন্দোলনের প্রস্তুতি! নেতৃত্বে আত্মহত্যা করা ছাত্রের ভাই





