নয়াদিল্লি: NEET-UG প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতির অভিযোগে যখন উত্তাল গোটা দেশ, ঠিক তখনই কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে নিয়ে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার ১০ জনপথের সামনে এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, পদত্যাগের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়ে প্রধানকে বরখাস্ত করার বদলে তাঁর দপ্তর বদল বা অন্য মন্ত্রকে স্থানান্তরের চিন্তাভাবনা করছে মোদী মন্ত্রিসভা। তবে আন্দোলনকারী পড়ুয়ারা যে এমন কোনও কৌশল মেনে নেবে না, তা স্পষ্ট করে দেন কংগ্রেস সাংসদ। (Rahul Gandhi on Dharmendra Pradhan)
‘দফতর বদল নয়, বরখাস্ত করতে হবে’: রাহুল
যন্তর-মন্তরে আন্দোলনরত ছাত্রনেতাদের পাশে নিয়ে রাহুল গান্ধী সাফ জানান, শিক্ষার্থীদের তিনটি প্রধান দাবি রয়েছে এবং এগুলো নিয়ে কোনও আপস বা রফাসূত্র হতে পারে না। রাহুলের কথায়, “প্রথম দাবি হল শিক্ষামন্ত্রী, যিনি দুর্নীতিগ্রস্ত, অযোগ্য এবং নীতিভ্রষ্ট, তাঁকে অবিলম্বে বরখাস্ত করতে হবে।”
মন্ত্রিসভার সম্ভাব্য দফতর বদল নিয়ে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভায় নাকি কথা চলছে প্রধানকে ছেঁটে না ফেলে অন্য কোনও মন্ত্রকে সরিয়ে দেওয়ার। এটি ভারতের শিক্ষার্থীদের কাছে কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”
শিক্ষামন্ত্রীকে “দুর্নীতির প্রতীক” এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের “ধ্বংসকারী” বলে উল্লেখ করে রাহুল বলেন, “ধরমেন্দ্র প্রধানকে এখানে বা ওখানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার গল্প চলবে না… তাঁকে বরখাস্তই করতে হবে।”
প্রধানের পদত্যাগ নিয়ে অবস্থান ও মোদীকে তোপ
অন্যদিকে, সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে যে ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের কোনও প্রশ্নই নেই। কেন্দ্রের মতে, “পদত্যাগ সবচেয়ে সহজ সিদ্ধান্ত” এবং সরকার মন্ত্রীর পাশেই দাঁড়াচ্ছে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র নেতৃত্বে আন্দোলন দিন দিন তীব্র হলেও কেন্দ্র যে মন্ত্রীকে আড়াল করার চেষ্টা করছে, সেই প্রসঙ্গে রাহুল বলেন, দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের কাছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ক্ষমা চাওয়া উচিত। তাঁর কটাক্ষ, “নরেন্দ্র মোদী ভারতের অতীত। অতীত কখনও ভবিষ্যতের সঙ্গে লড়াই করতে পারে না।”
পুলিশি অত্যাচার ও বৈঠক ঘিরে অনিশ্চয়তা
গত সোমবার পড়ুয়াদের ‘সংসদ চলো’ অভিযানে পুলিশি লাঠিচার্জ এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের তীব্র নিন্দা করে দোষী আধ্যাত্মিক ও পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানান রাহুল।
আজই কেন্দ্র ও আন্দোলনকারী মঞ্চ সিজেপি (CJP)-র মধ্যে তৃতীয় দফায় আলোচনার কথা রয়েছে। সরকার ইতিমধ্যেই পড়ুয়াদের তিনটির মধ্যে দুটি মূল দাবি মেনে নিলেও ধরমেন্দ্র প্রধানের অপসারণ নিয়েই জট তৈরি হয়েছে। সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার যদি শিক্ষামন্ত্রীকে আড়াল করতে থাকে, তবে আলোচনার আর কোনও অর্থই থাকে না। কথা না মিললে বিক্ষোভকারীরা ফের সংসদ অভিযানের ডাক দিতে পারে বলেও ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রক্তপাতের পরিকল্পনা! অসম এসটিএফের হাতে গ্রেফতার আকরামুল-আবুল হোসেন
‘ঠিক যেন উত্তর কোরিয়া’! সফদরজং হাসপাতালে ‘বন্দিদশা’ নিয়ে বিস্ফোরক সোনম




