উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রক্তপাতের পরিকল্পনা! অসম এসটিএফের হাতে গ্রেফতার আকরামুল-আবুল হোসেন

গুয়াহাটি: অসমের বিশেষ টাস্ক ফোর্সের বিশাল অভিযান। (Assam)একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি-অপরাধী নেটওয়ার্ক ‘শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক’ (এসবিএন)-এর তিন সন্দেহভাজন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে তারা । গ্রেফতার…

assam-stf-network-arrests

গুয়াহাটি: অসমের বিশেষ টাস্ক ফোর্সের বিশাল অভিযান। (Assam)একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি-অপরাধী নেটওয়ার্ক ‘শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক’ (এসবিএন)-এর তিন সন্দেহভাজন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে তারা । গ্রেফতার হওয়া ব্যাক্তিরা হলেন আকরামুল ইসলাম, আবুল হোসেন ও আমিনুর রহমান। পুলিশ জানিয়েছে, এই তিনজন অসমের বিভিন্ন জেলা থেকে ধরা পড়েছেন এবং তাঁরা পাকিস্তানের নির্দেশে ভারতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছিলেন।

এসটিএফের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই নেটওয়ার্কের ওপর নজরদারি চলছিল। শাহজাদ ভাট্টি নামে পাকিস্তানের এক ব্যক্তি এই নেটওয়ার্কের মূল হোতা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তিনি ভারতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য স্থানীয় লোকজনকে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ। গ্রেফতার তিনজনের ছবি প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে বাম থেকে ডানে আকরামুল ইসলাম, আবুল হোসেন ও আমিনুর রহমানকে দেখা যাচ্ছে।

Advertisements

আরও দেখুনঃ ফের প্রতিরক্ষায় ইতিহাস ভারতের! মেড ইন ইন্ডিয়ায় সফল সারফেস-টু-এয়ার মিসাইল ‘কুশা’

এসটিএফ সূত্র জানিয়েছে, আকরামুল ইসলাম ধুবড়ি জেলার বাসিন্দা, আমিনুর রহমান চিরাং এবং আবুল হোসেন বরপেটার। তাঁদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ, অর্থ সংগ্রহ এবং পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের সঙ্গে যোগাযোগের অভিযোগ রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা স্বীকার করেছেন যে, তাঁরা আইএসআই-এর নির্দেশে কাজ করছিলেন।

তাঁদের লক্ষ্য ছিল অসমসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অস্থিরতা তৈরি করা, যুবকদের কট্টরপন্থী করে তোলা এবং সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটানো।এই গ্রেফতার অসম পুলিশের জন্য এক বড় সাফল্য। এসটিএফ প্রধান বলেছেন, “আমরা সীমান্তবর্তী রাজ্যে সন্ত্রাসবাদী নেটওয়ার্কের শেকড় উপড়ে ফেলতে বদ্ধপরিকর। এই নেটওয়ার্ক শুধু অসম নয়, পুরো দেশের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।”

আরও দেখুনঃ ধর্মীয় পোশাক ছিঁড়েছে আরশোলারা! নেতা দীপকেকে ক্ষমা চাওয়ার হুঁশিয়ারি শিখ সম্প্রদায়ের

পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই তিনজনের সঙ্গে আরও কয়েকজনের যোগাযোগ রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাঁদের ফোন, ডিজিটাল ডিভাইস ও অন্যান্য সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এসব থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।শাহজাদ ভাট্টি নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত জানা গেছে যে, এটি সোশ্যাল মিডিয়া ও এনক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে যুবকদের কাছে পৌঁছাচ্ছে।

অর্থের লোভ দেখিয়ে কিংবা ধর্মীয় উসকানি দিয়ে তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। এর আগেও দেশের বিভিন্ন রাজ্যে এই নেটওয়ার্কের সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়েছে। অসম পুলিশের এই অভিযান কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির সঙ্গে সমন্বয় করে চালানো হয়েছে।অসমের সাধারণ মানুষ এই খবরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন।

অনেকে বলছেন, “সীমান্ত এলাকায় এমন নেটওয়ার্ক থাকলে তো আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থেকেই যায়। পুলিশ ভালো কাজ করেছে।” তবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কিছু প্রতিনিধি আশঙ্কা করছেন যে, এই ধরনের অভিযানের সময় নিরপরাধ লোকজন যেন হয়রানির শিকার না হন। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে, তদন্ত নিরপেক্ষভাবে চলবে।