নয়াদিল্লি: NEET-UG প্রশ্নফাঁসকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র সমর্থনে ২৬ দিন অনশন করার পর অবশেষে পুলিশের বলপ্রয়োগে আটক হওয়া পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন। গত ১৮ জুলাই দিল্লি পুলিশ তাঁকে যন্তর-মন্তর থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে সফদরজং হাসপাতালে ভর্তি করেছিল। শুক্রবার অনশন ভাঙার পর একটি ২৪ মিনিটের ভিডিও প্রকাশ করে ওয়াংচুক দাবি করেছেন, হাসপাতালে তাঁকে বন্দির মতো আটকে রাখা হয়েছিল।
হাসপাতাল নাকি বন্দিশালা?
ভিডিওতে নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ৫৯ বছর বয়সি এই আন্দোলনকারী ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “সেটা কেবল একটা হাসপাতাল ছিল না, ওটা ছিল একটা সেনানিবাস, একটা কারাগার। আমাকে এমনভাবে রাখা হয়েছিল যা হয়তো একজন সাধারণ বন্দির ক্ষেত্রেও করা হয় না। ঘরের বাইরে এক পা ফেলার অনুমতি ছিল না। আমার ঘরে কেউ পৌঁছাতে পারত না, এমনকী একটা পাখিও তার আশপাশে উড়তে পারত না।”
তাঁর অভিযোগ, আত্মীয়-স্বজন বা লন্ডন থেকে আসা পরিচিত কাউকেই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। এমনকি মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা ছিল। যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল কাগজের টুকরোয় ছোট নোট লেখা, তাও অত্যন্ত কড়াকড়ির মধ্যে কদাচিৎ সম্ভব হতো। পরিস্থিতিকে ‘উত্তর কোরিয়ার জেলের’ সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, চিকিৎসার নামে এই আচরণ পুরোপুরি অবৈধ ছিল।
হাসপাতালে ধুন্ধুমার ও ডিসচার্জ নিয়ে বিতর্ক
দিল্লি হাইকোর্ট তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি দেওয়ার পরেও তাঁকে বাইরে বের হতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন ওয়াংচুক। তাঁর দাবি, দুপুর ২টো নাগাদ আদালতের নির্দেশ এলেও ইচ্ছাকৃতভাবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তা আটকে রাখা হয়, যাতে তিনি হাসপাতাল ছাড়তে না পারেন। প্রকাশিত ভিডিওতে তাঁকে সফদরজং হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে তীব্র বাকবিতণ্ডায় জড়াতে এবং মেঝেতে শুয়ে প্রতীকী বিক্ষোভ দেখাতেও দেখা গিয়েছে। শেষ পর্যন্ত বহু ধস্তাধস্তি ও যুক্তিতর্কের পর তিনি সেখান থেকে বের হন।
উল্লেখ্য, সরকারের তরফ থেকে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ না করা, সংসদ অধিবেশনে পরীক্ষা সংস্কার নিয়ে আলোচনা এবং নিট প্রশ্নফাঁসের জেরে আত্মঘাতী হওয়া পড়ুয়াদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ নিয়ে ইতিবাচক বার্তার পর গত বৃহস্পতিবার রাতেই নিজের অনশন প্রত্যাহার করেন ওয়াংচুক।
সফরজং হাসপাতালের সাফাই
অন্যদিকে, ওয়াংচুকের এই ভিডিও ও অভিযোগের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সফদরজং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের দাবি, যে ভিডিওটি সামনে এসেছে তা হাসপাতাল প্রশাসন হাইকোর্টের লিখিত নির্দেশ পাওয়ার আগেই ওয়াংচুকের সহকারীরা রেকর্ড করেছিলেন। আদালতের লিখিত নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই, সেদিন সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে নিয়মমাফিক মেদান্তা গুরুগ্রামের চিকিৎসকদের দলের হাতে ওয়াংচুককে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
বড় সাফল্য পঞ্জাব পুলিশের! অপারেশন নোম্যাডে দেশে ফিরল কুখ্যাত গ্যাংস্টার বিল্লা
ধর্মীয় পোশাক ছিঁড়েছে আরশোলারা! নেতা দীপকেকে ক্ষমা চাওয়ার হুঁশিয়ারি শিখ সম্প্রদায়ের





