ভুবনেশ্বর: উড়িষ্যার রাজধানী ভুবনেশ্বরে ইস্কন মন্দিরের সামনে (ISKCON)তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। ইস্কনের রথযাত্রা পালনের তারিখ পুরীর প্রথাগত ক্যালেন্ডার থেকে আলাদা করার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এই অসন্তোষ। স্থানীয় সেবায়ত গোষ্ঠীগুলো এই সিদ্ধান্তকে জগন্নাথ সংস্কৃতির ঐতিহ্যের প্রতি অবমাননা বলে মনে করছে।
তারা ইস্কনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। চলতি ঘটনাপ্রবাহে ছত্রিশ নিজোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যেখানে ইস্কনের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রথযাত্রা উড়িষ্যার সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় জীবনের অন্যতম প্রধান উৎসব। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে একটি নির্দিষ্ট পঞ্জিকা অনুসরণ করে এই যাত্রা পালিত হয়ে আসছে।
আরও দেখুনঃ তেলের বাজারে নয়া টুইস্ট! এবার ভারত থেকে পেট্রল আমদানি করবে রাশিয়া
ইস্কন কর্তৃপক্ষ এবার সেই ঐতিহ্যবাহী তারিখ থেকে সরে গিয়ে ভিন্ন তারিখে রথযাত্রার আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বিতর্কের সূত্রপাত। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় রীতি-নীতি ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছে। তারা অভিযোগ করেন যে, ইস্কনের এই পদক্ষেপ জগন্নাথ ভক্তদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে।সেবায়ত গোষ্ঠীর সদস্যরা জানিয়েছেন, পুরীর মন্দিরের ঐতিহ্যকে সম্মান করা প্রত্যেক ভক্তের দায়িত্ব।
ইস্কনের মতো আন্তর্জাতিক সংগঠন যদি স্থানীয় ক্যালেন্ডার মেনে না চলে, তাহলে তা সাংস্কৃতিক অসম্মানের শামিল। তারা প্রশাসনের কাছে ইস্কনের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা মন্দির চত্বরের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দেন এবং প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখনও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি, তবে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আরও দেখুনঃ হিজবুল জঙ্গি ইমতিয়াজকে রেডকর্নার নোটিস জারি ইন্টারপোলের
ছত্রিশ নিজোগ, যা পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের বিভিন্ন সেবায়ত গোষ্ঠীর সমন্বয়ক সংগঠন, এই বিষয়ে একটি জরুরি বৈঠক ডাকতে পারে। বৈঠকে ইস্কনের সিদ্ধান্তের বৈধতা, ধর্মীয় রীতির প্রতি সম্মান এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। নিজোগের নেতারা বলছেন, জগন্নাথ সংস্কৃতি একটি অবিচ্ছেদ্য ঐতিহ্য।
কেউ যদি তা ভাঙার চেষ্টা করে, তাহলে সেবায়ত সমাজ চুপ করে থাকবে না।ইস্কন কর্তৃপক্ষ অবশ্য তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তারা জানিয়েছে যে, রথযাত্রা বিশ্বব্যাপী ভক্তদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি কোনো ঐতিহ্যবিরোধী পদক্ষেপ নয় বরং জগন্নাথ ভক্তির প্রসার ঘটানোর প্রয়াস। ইস্কনের নেতারা বলেন, তারা পুরীর মন্দিরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং কোনো বিভেদ সৃষ্টি করতে চান না। তবে স্থানীয়দের এই ব্যাখ্যা মেনে নিতে পারছেন না।
আরও দেখুনঃ অনুষ্ঠান হোক বা খেলার মাঠ ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে আগে পরে ‘জন গণ’! নির্দেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের





