তেলের বাজারে নয়া টুইস্ট! এবার ভারত থেকে পেট্রল আমদানি করবে রাশিয়া

নয়াদিল্লি: বিশ্ববাজারে তেলের খেলায় এক অপ্রত্যাশিত টুইস্ট। (Russia)যে রাশিয়া একসময় বিশ্বের অন্যতম বড় তেল রফতানিকারক দেশ, সেই দেশই এখন ভারত থেকে পেট্রোল আমদানি করছে। ইউক্রেন…

russia-imports-petrol-from-india

নয়াদিল্লি: বিশ্ববাজারে তেলের খেলায় এক অপ্রত্যাশিত টুইস্ট। (Russia)যে রাশিয়া একসময় বিশ্বের অন্যতম বড় তেল রফতানিকারক দেশ, সেই দেশই এখন ভারত থেকে পেট্রোল আমদানি করছে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে রাশিয়ার শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে ‘ইউএনও রিভার্স’ হয়ে গেছে পরিস্থিতি। ভারতীয় শোধনাগার থেকে তৈরি পেট্রোল এখন রাশিয়ার বন্দরে যাচ্ছে।

সূত্র অনুসারে, সম্প্রতি ভারত থেকে অন্তত ৬০ হাজার মেট্রিক টন পেট্রোল রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে। দুটি ট্যাঙ্কারে করে এই চালান যায়। রাশিয়ার জ্বালানি সংকট এতটাই তীব্র যে সেখানে পেট্রোল রেশনিং চালু হয়েছে, গ্যাস স্টেশনে লম্বা লাইন পড়ছে এবং দামও বেড়েছে। ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার ২০-৪০ শতাংশ শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আরও দেখুনঃ মোদী রাজ্যের ৩০১ টি গ্রামে হনুমান মন্দির-ঘর ওয়াপসি অভিযানের ঘোষণা হিন্দু পরিষদের

ফলে দেশটি নিজের তেল পরিশোধন করে পেট্রোল তৈরি করতে পারছে না। এই সংকট মেটাতে তারা ভারতের দিকে মুখ ফিরিয়েছে।ভারতের তেল শিল্পের জন্য এটি একটি বড় মাইলফলক। দেশটি প্রতিদিন প্রায় ৩.৫ থেকে ৪ লাখ ব্যারেল পেট্রোল রফতানি করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ইউরোপ, আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকাসহ অনেক দেশ ভারতীয় পেট্রোল ব্যবহার করে।

নয়ারা এনার্জির মতো শোধনাগার থেকে তৈরি পেট্রোল ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে রাশিয়ায় পৌঁছাচ্ছে। ভারত সরকার অবশ্য বলছে, সরাসরি সরকারি পর্যায়ে রফতানি হচ্ছে না। ব্যবসায়ীরা এই চুক্তি করছে। তবে বাস্তবে ভারতীয় পেট্রোল রাশিয়ায় যাচ্ছে, যা এক ধরনের ‘রিভার্স ফ্লো’।এই ঘটনা বিশ্ব অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি বদলে দিচ্ছে। রাশিয়া একসময় ভারতকে সস্তায় অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) সরবরাহ করত।

আরও দেখুনঃ হিজবুল জঙ্গি ইমতিয়াজকে রেডকর্নার নোটিস জারি ইন্টারপোলের

ভারত সেই তেল শোধন করে পেট্রোল-ডিজেল বানিয়ে বিশ্ববাজারে বিক্রি করত। এখন সেই চক্র ঘুরে গেছে। রাশিয়ার জন্য এটি লজ্জারও বটে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই ঘটনাকে হাস্যরস করে বলেছেন, যুদ্ধের খরচ এখন রাশিয়াকেই গুনতে হচ্ছে।ভারতের জন্য এটি অর্থনৈতিক সুবিধা। অতিরিক্ত পেট্রোল রফতানি করে দেশ অতিরিক্ত বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে। ভারতীয় শোধনাগারগুলো পুরোদমে চলছে।

বিশেষ করে নয়ারা এনার্জি, যেখানে রাশিয়ার রোসনেফটের বড় অংশীদারিত্ব রয়েছে, সেখান থেকে পেট্রোল যাচ্ছে। এটি এক ধরনের বাণিজ্যিক বাস্তবতা। যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সংকটকে ভারত ব্যবসায়িক সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়েছে।তবে এই রফতানি নিয়ে কিছু প্রশ্নও উঠছে। পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে এমন বাণিজ্য কতটা চলবে?

আরও দেখুনঃ মোদী সরকারের নিরলস প্রচেষ্টা! বিশ্বে সৌর শক্তিতে ২ নম্বরে ভারত

ভারত সবসময় বলে আসছে, তার জ্বালানি নিরাপত্তা সবার আগে। সস্তা রুশ তেল আমদানি করে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করেছে ভারত। এখন সেই তেল পরিশোধন করে ফেরত পাঠানো এক অদ্ভুত চক্র তৈরি করেছে।বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে যে বিশ্ববাজার কতটা আন্তঃসংযুক্ত। এক দেশের সংকট অন্য দেশের সুযোগ হয়ে উঠতে পারে। রাশিয়ার জ্বালানি সংকট যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে ভারত আরও বেশি পেট্রোল রফতানি করতে পারে। এতে ভারতের রফতানি আয় বাড়বে এবং কর্মসংস্থানও বজায় থাকবে।