মুম্বই: মহারাষ্ট্রে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC Panel) প্রণয়নের পথে প্রথম বড় পদক্ষেপ নিয়েছে দেবেন্দ্র ফড়নবীসের নেতৃত্বাধীন সরকার। সাত সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে রয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রঞ্জনা দেশাই। কিন্তু এই কমিটিতে কোনো মুসলিম সদস্য না থাকায় বিতর্ক শুরু হয়েছে। সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের জন্য জৈন সম্প্রদায়ের একজন সদস্যকে মনোনীত করা হয়েছে।
বিরোধী দলগুলো এই সিদ্ধান্তকে একপেশে বলে সমালোচনা করছে।কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন প্রাক্তন হাইকোর্ট বিচারপতি আরসি চাভান, এসজি মেহেরে, প্রাক্তন মুখ্যসচিব ডিকে জৈন, প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল বীরেন্দ্র সারাফ, সামাজিক কর্মী রমেশ পাটঙ্গে এবং শিক্ষাবিদ সুবর্ণা রাওয়াল।
আরও দেখুনঃ শতাব্দীর ঐতিহ্য ভেঙে রথযাত্রার আলাদা দিন ঘোষণা ইস্কনের! ওড়িশায় তুমুল বিক্ষোভ
সরকারের দাবি, এই কমিটি ছয় মাসের মধ্যে খসড়া প্রস্তুত করে দেবে এবং শীতকালীন অধিবেশনে বিল পেশ করা হতে পারে। সংবিধানের নির্দেশক নীতির অংশ হিসেবে ইউসিসি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ফড়নবীস জানিয়েছেন।কংগ্রেস নেতা হুসেইন দলওয়াইসহ বিরোধীরা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়ে অভিযোগ করেছেন যে, কমিটিতে মুসলিম ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের কোনো প্রতিনিধিত্ব নেই।
তারা বলছেন, একটি আইন যা সব সম্প্রদায়কে প্রভাবিত করবে, সেখানে সবার মতামত থাকা উচিত। এমআইএম নেতা ওয়ারিস পাঠানও প্রশ্ন তুলেছেন, সংখ্যালঘুদের কণ্ঠস্বরের কোনো মূল্য নেই কি? ডিকে জৈনকে সংখ্যালঘু প্রতিনিধি হিসেবে দেখা হলেও মুসলিম সম্প্রদায়ের অনুপস্থিতি উদ্বেগ বাড়িয়েছে।সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, কমিটি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত এবং এটি নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে। কোনো সম্প্রদায়কে বাদ দেওয়া হয়নি, বরং যোগ্যতার ভিত্তিতে সদস্য নির্বাচন করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ মোদী রাজ্যের ৩০১ টি গ্রামে হনুমান মন্দির-ঘর ওয়াপসি অভিযানের ঘোষণা হিন্দু পরিষদের
তবে বিরোধীরা মনে করেন, এই কমিটির গঠন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে সন্দেহ ও অস্বস্তি তৈরি করেছে। বিশেষ করে মুসলিম ব্যক্তিগত আইনের সঙ্গে জড়িত বিষয়গুলোতে তাদের মতামত না থাকলে আইনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।ইউসিসি নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়। উত্তরাখণ্ড ইতিমধ্যে এই আইন চালু করেছে। অসম ও গুজরাটেও প্রক্রিয়া চলছে। মহারাষ্ট্রে এই উদ্যোগ নেওয়ায় রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও তীব্র হয়েছে। সমর্থকরা বলছেন, ইউসিসি লিঙ্গসমতা, নারী অধিকার এবং জাতীয় ঐক্যের জন্য জরুরি। বিরোধীরা বলছেন, এটি সংখ্যালঘুদের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অধিকারের উপর হস্তক্ষেপ।
আরও দেখুনঃ হিজবুল জঙ্গি ইমতিয়াজকে রেডকর্নার নোটিস জারি ইন্টারপোলের





