ঘুম আসতে দেরি? দু’মিনিটে ঘুমের ‘মিলিটারি স্লিপ মেথড’ নিয়ে বাড়ছে আগ্রহ

অরিত্রী চন্দ, কলকাতা: দিনের পর দিন অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন? বিছানায় শুয়ে দীর্ঘক্ষণ এপাশ-ওপাশ করেও ঘুম আসছে না? বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রা, মানসিক চাপ, অতিরিক্ত…

military-sleep-method-how-to-fall-asleep-faster-insomnia-tips

অরিত্রী চন্দ, কলকাতা: দিনের পর দিন অনিদ্রা বা ঘুমের সমস্যায় ভুগছেন? বিছানায় শুয়ে দীর্ঘক্ষণ এপাশ-ওপাশ করেও ঘুম আসছে না? বর্তমান ব্যস্ত জীবনযাত্রা, মানসিক চাপ, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম এবং অনিয়মিত রুটিনের কারণে এই সমস্যা এখন অনেকেরই। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শুধু ক্লান্তিই নয়, মনোযোগ কমে যাওয়া, খিটখিটে মেজাজ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস, এমনকি দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সম্প্রতি আবারও আলোচনায় এসেছে ‘মিলিটারি স্লিপ মেথড’ (Military Sleep Method), যা নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে সাহায্য করতে পারে বলে দাবি করা হয়।

কী এই ‘মিলিটারি স্লিপ মেথড’ (Military Sleep Method)?

এই কৌশলের উৎপত্তি সামরিক প্রশিক্ষণে। যুদ্ধক্ষেত্র বা চরম প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও সেনারা যাতে অল্প সময়ের মধ্যে শরীর ও মনকে বিশ্রামের অবস্থায় নিয়ে যেতে পারেন, সেই উদ্দেশ্যেই এই পদ্ধতি তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে এটি সাধারণ মানুষের মধ্যেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, সবাই যে ঠিক দু’মিনিটের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়বেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। বরং এটি একটি রিল্যাক্সেশন কৌশল, যা নিয়মিত অভ্যাস করলে ঘুম আসতে সহায়তা করতে পারে।

কীভাবে করবেন এই পদ্ধতি?

প্রথমে আরামদায়কভাবে বিছানায় শুয়ে বা চেয়ারে বসে শরীরকে সম্পূর্ণ শিথিল করে নিন।
এরপর ধাপে ধাপে মুখের পেশিগুলোকে ঢিলে করার চেষ্টা করুন। কপাল, চোখ, গাল, চোয়াল এবং জিভের অপ্রয়োজনীয় টান কমিয়ে ফেলুন। তারপর কাঁধ নিচে নামিয়ে দুই হাত সম্পূর্ণ আরামদায়ক অবস্থায় ছেড়ে দিন।
এরপর বুক, পেট, কোমর, উরু, হাঁটু, পায়ের পাতা পর্যন্ত শরীরের প্রতিটি অংশ একে একে শিথিল করুন। অনেক সময় শরীরের বিভিন্ন অংশে অজান্তেই টান তৈরি হয়, যা ঘুমের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য সেই চাপ দূর করা।

এবার মনকে শান্ত করুন

শরীর পুরোপুরি শিথিল হয়ে গেলে মনকে শান্ত করার পালা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময় কয়েক সেকেন্ডের জন্য সব ধরনের চিন্তা দূরে সরিয়ে রাখতে চেষ্টা করুন। নিজেকে একটি শান্ত হ্রদের ধারে, সবুজ প্রকৃতির মাঝে কিংবা সম্পূর্ণ অন্ধকার ও নীরব ঘরে কল্পনা করতে পারেন।

যদি বারবার অন্য চিন্তা চলে আসে, তাহলে মনে মনে একটি সহজ শব্দ বা ছোট বাক্য বারবার বলুন। এতে মন ধীরে ধীরে অন্য ভাবনা থেকে সরে এসে বিশ্রামের অবস্থায় যেতে পারে।

একদিনে ফল মিলবে না

ঘুম বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতি একবার ব্যবহার করেই ফল পাওয়ার আশা করা উচিত নয়। নিয়মিত কয়েক সপ্তাহ অনুশীলন করলে অনেকের ক্ষেত্রে এটি কার্যকর হতে পারে।
পাশাপাশি ভালো ঘুমের জন্য আরও কিছু অভ্যাস সমান গুরুত্বপূর্ণ। যেমন:
• ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ ব্যবহার কমানো
• সন্ধ্যার পর অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলা
• প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠা
• শোবার ঘর শান্ত, অন্ধকার ও আরামদায়ক রাখা
• নিয়মিত শরীরচর্চা এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অনিদ্রা থাকলে বা ঘুমের সমস্যার কারণে দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অনেক সময় উদ্বেগ, বিষণ্নতা, হরমোনজনিত সমস্যা, স্লিপ অ্যাপনিয়া বা অন্যান্য শারীরিক অসুস্থতার কারণেও ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো ঘুম শুধু শরীরের ক্লান্তি দূর করে না। এটি স্মৃতিশক্তি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, মানসিক সুস্থতা এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঘুমের ওষুধের উপর নির্ভর করার আগে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, নিয়মিত রুটিন এবং ‘মিলিটারি স্লিপ মেথড’-এর মতো বৈজ্ঞানিকভাবে আলোচিত রিল্যাক্সেশন কৌশল অনুশীলন করা অনেকের ক্ষেত্রেই উপকারী হতে পারে।