Health Tips: ঘুম থেকে উঠে এই ৪ অভ্যাস বদলাতে পারে সুস্থ ও দীর্ঘায়ু জীবন

সকালের প্রথম ১০ মিনিটে সূর্যের আলো, জলপান, হালকা ব্যায়াম ও প্রোটিনসমৃদ্ধ নাশতার অভ্যাস শরীর ও মনের সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

Health Tips 4-morning-habits-for-better-health-and-long-life-doctors-advice

Health Tips: সকালের প্রথম কয়েক মিনিটেই লুকিয়ে থাকতে পারে সারাদিনের সুস্থতার চাবিকাঠি

অরিত্রী চন্দ, কলকাতা: প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর আমরা অনেকেই তাড়াহুড়ো করে ফোন হাতে নিই, এক কাপ চা বা কফি খাই কিংবা কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই দিনের কাজ শুরু করি। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের শুরুটা কীভাবে করছেন, তার প্রভাব পড়তে পারে পরবর্তী ১৬ ঘণ্টার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার ওপর। এমনকি দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য ও জীবনযাত্রার মানও এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে।

সম্প্রতি আমেরিকান চিকিৎসক ভ্যাসিলি এলিয়োপলোস তাঁর ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে সকালের কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাসের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, ঘুম থেকে ওঠার পরের প্রথম ১০ মিনিট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে কয়েকটি সহজ অভ্যাস মেনে চললে শরীর আরও সতেজ থাকতে পারে এবং দৈনন্দিন কাজের জন্য নিজেকে ভালোভাবে প্রস্তুত করা সম্ভব।

   

১. ঘুম থেকে উঠে প্রথমেই সূর্যের আলোতে যান

চিকিৎসকের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পরপরই মোবাইল ফোনে চোখ না রেখে কিছুক্ষণ প্রাকৃতিক সূর্যের আলোতে থাকা ভালো। এতে শরীরের জৈবঘড়ি বা বডি ক্লক স্বাভাবিক ছন্দে কাজ করতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে ঘুম ও জাগরণের স্বাভাবিক চক্র বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে।

এছাড়া সূর্যের আলো শরীরের কর্টিসল এবং মেলাটোনিন হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। এর ফলে সারাদিন সতেজ অনুভব করা এবং রাতে ভালো ঘুম হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।

২. পর্যাপ্ত জল পান করুন

রাতভর ঘুমের কারণে শরীরে জলের ঘাটতি তৈরি হতে পারে। তাই সকালে উঠে জল পান করা শরীরকে দ্রুত হাইড্রেট করতে সাহায্য করে।

চিকিৎসক ভ্যাসিলি এলিয়োপলোসের পরামর্শ অনুযায়ী, অনেকেই সামান্য নুন মিশিয়ে জল পান করার অভ্যাস অনুসরণ করেন। এর উদ্দেশ্য শরীরের খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করা। তবে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, কিডনির সমস্যা বা অন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি রোগ রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত নুন খাওয়া উচিত নয়।

৩. শরীরচর্চা করুন, কিন্তু ঘুম থেকে উঠেই ক্যাফেইন নয়

সকালে উঠে কয়েক সেকেন্ডের হালকা স্ট্রেচিং দিয়ে শুরু করে অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট হাঁটা বা দ্রুত গতিতে হাঁটার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। নিয়মিত শরীরচর্চা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে এবং শরীরকে আরও সক্রিয় রাখে।

একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ঘুম থেকে উঠেই চা বা কফির মতো ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় না খাওয়াই ভালো। তাঁর মতে, এতে শরীরে কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা সকালের স্বাভাবিক হরমোনীয় ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।

৪. প্রোটিনসমৃদ্ধ প্রাতরাশ করুন

সকালের খাবার বাদ দেওয়ার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। তবে চিকিৎসকের মতে, দিনের প্রথম খাবারে ৩০ গ্রাম প্রোটিন রাখার চেষ্টা করা উচিত। এতে ইনসুলিনের কার্যক্ষমতা উন্নত হতে পারে এবং পেশির শক্তি বজায় রাখতে সাহায্য করে।

ডিম, দই, দুধ, পনির, ডাল বা অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার সকালের নাশতায় রাখা যেতে পারে। সুষম খাদ্য শরীরকে দীর্ঘ সময় শক্তি জোগায় এবং অযথা ক্ষুধাও কমাতে সাহায্য করে।

সুস্থ জীবনের জন্য ছোট অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনতে পারে

সকালের শুরুটা ঠিকভাবে করলে সারাদিনের কাজের গতি, মানসিক সতেজতা এবং শারীরিক সুস্থতার ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। সূর্যের আলোতে কিছুক্ষণ থাকা, পর্যাপ্ত জল পান করা, নিয়মিত হাঁটা এবং প্রোটিনসমৃদ্ধ প্রাতরাশের মতো সহজ অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে সহায়ক হতে পারে।

তবে মনে রাখা জরুরি, সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ অনুসরণের আগে নিজের শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করা উচিত। বিশেষ করে যাঁদের আগে থেকে কোনো রোগ রয়েছে, তাঁরা খাদ্যাভ্যাস বা জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আনার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।

আরও পড়ুন: কুইক কমার্সে খাবার আনছেন? জানুন নষ্ট খাবারের মারাত্মক দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব
আরও পড়ুন: শুধু গলা শুষ্ক হওয়াই নয়, মাথাব্যথা এবং বিরক্তিও জলশূন্যতার ইঙ্গিত
আরও পড়ুন: প্রশ্নের মুখে অভিযান! পাকিস্তানে পোলিও টিকায় বাদ ১০ লাখ শিশু