লখনউ: অযোধ্যার রাম মন্দিরের (Ram Mandir) অনুদান আত্মসাতের অভিযোগ ঘিরে তদন্ত আরও বিস্তৃত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হওয়া ৮ অভিযুক্তকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, অভিযুক্তরা এখন অত্যন্ত ভীত এবং নিজেদের কাজের জন্য অনুতপ্ত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। একই সঙ্গে এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না এবং প্রকৃত মূলচক্রী কে, তা খুঁজে বের করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।
তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে উত্তরপ্রদেশ সরকার গঠিত স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) মন্দির ট্রাস্টের গত পাঁচ বছরের আর্থিক হিসাবও পুনরায় খতিয়ে দেখার প্রস্তুতি নিয়েছে।
মূলচক্রীকে খুঁজছে তদন্তকারী সংস্থা
পুলিশ সূত্রের দাবি, গ্রেফতার হওয়া অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগে কোনও অপরাধমূলক রেকর্ড পাওয়া যায়নি। তদন্তকারীদের মতে, এত বড় আর্থিক অনিয়মের পরিকল্পনা বা বাস্তবায়নের পূর্ব অভিজ্ঞতাও তাঁদের ছিল না।
এই কারণেই তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, অভিযুক্তরা কারও প্ররোচনায় এই কাজ করেছে কি না। একই সঙ্গে এই চক্রের প্রকৃত মূলচক্রী কে, তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।
আরও পড়ুন: মেলবোর্ন সফরের আগেই মোদীকে মৃত্যু হুমকিতে চাঞ্চল্য
এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া আট অভিযুক্ত হলেন টিন্নু যাদব (রামশঙ্কর যাদব), অবিনাশ শুক্লা, অনুকল্প মিশ্র, লাভ কুশ মিশ্র, মনীশ কুমার যাদব, করুণেশ পাণ্ডে, রামাশঙ্কর মিশ্র এবং সুভাষ শ্রীবাস্তব। বর্তমানে তাঁরা সকলেই ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছেন।
ফের অযোধ্যায় গেল SIT
উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের নির্দেশে গঠিত SIT শনিবার আবার অযোধ্যা সফর করে। তদন্তকারী দল মন্দির ট্রাস্টের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি চম্পত রাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। পাশাপাশি গোপাল রাও এবং অনিল মিশ্রের বয়ানও নথিভুক্ত করা হয়। এরপর দলটি লখনউ ফিরে যায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রয়োজন হলে গোপাল রাও ও অনিল মিশ্রের আনুষ্ঠানিক বয়ানও রেকর্ড করা হবে। এছাড়া এখনও মন্দির ট্রাস্টের সদস্য, মন্দিরের কর্মী এবং ব্যাঙ্ক আধিকারিক-সহ মোট ৭০ থেকে ৮০ জনের বক্তব্য রেকর্ড করা বাকি রয়েছে।
আরও পড়ুন: মোদী জমানায় অস্ত্র রফতানিতে ইতিহাস ভারতের! ৮ বছরে বাড়ল ১০ গুন
অবিনাশ শুক্লার হেফাজত পেল পুলিশ
এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্লার পুলিশি হেফাজতের অনুমতি দিয়েছে আদালত। তদন্তকারীদের দাবি, অযোধ্যায় তাঁর বাড়ি থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উদ্ধার হয়েছে। সেই কারণেই তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন বলে আদালতের কাছে আবেদন করা হয়েছিল।
এছাড়াও আদালত গ্রেফতার হওয়া আরও পাঁচ অভিযুক্ত, অনুকল্প মিশ্র, লাভ কুশ মিশ্র, টিন্নু যাদব, করুণেশ পাণ্ডে এবং মনীশ যাদবকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতিও দিয়েছে।
পাঁচ বছরের আর্থিক হিসাব ফের খতিয়ে দেখবে SIT
তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে নতুন তথ্য। সেই কারণেই শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থ ক্ষেত্র ট্রাস্টের গত পাঁচ বছরের আর্থিক হিসাব পুনরায় নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে SIT।
আরও পড়ুন: যোগী রাজ্যে স্কুল বাস চালকের ধর্মান্তকরণের ফাঁদে ছাত্রী! নাবালিকার সাহসে শ্রীঘরে মুখতার
তদন্তকারীরা নির্মাণ সংক্রান্ত ব্যয়, অনুদান হিসেবে পাওয়া সোনা-রুপোর গয়না এবং অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীর হিসাবও নতুন করে যাচাই করবেন। বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের আশঙ্কা থেকেই এই পুনঃনিরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তদন্তকারী সূত্রে জানা গেছে।
উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ নগদ ও মূল্যবান সামগ্রী
তদন্ত চলাকালীন বিভিন্ন অভিযুক্তের কাছ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
অবিনাশ শুক্লার কাছ থেকে ২০.৩৯ লক্ষ টাকা, করুণেশ পাণ্ডের কাছ থেকে ১৮.০৭ লক্ষ টাকা, অনুকল্প মিশ্রের কাছ থেকে ১৬.৮২ লক্ষ টাকা, লাভ কুশ মিশ্রের কাছ থেকে ১৪.২৫ লক্ষ টাকা, রামাশঙ্কর মিশ্রের কাছ থেকে ৭.৩২ লক্ষ টাকা এবং টিন্নু যাদবের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়েছে।
এছাড়া তদন্তকারীরা প্রায় ১১ গ্রাম সোনা, প্রায় ৩৭৫ গ্রাম রুপো এবং ১,১২১ মার্কিন ডলারও উদ্ধার করেছেন।
তদন্ত এখনও চলছে
পুলিশ এখনও এই মামলার তদন্ত শেষ করেনি। তদন্তকারীরা ধারাবাহিকভাবে সাক্ষ্য সংগ্রহ, আর্থিক নথি পরীক্ষা এবং অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। তদন্ত শেষ হলে অনুদান আত্মসাতের পুরো চক্র, সম্ভাব্য মূলচক্রী এবং আর্থিক অনিয়মের প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসতে পারে।


