বুদগাম: মধ্যপ্রাচে চলতে থাকা সংকটের মাঝে জম্মু কাশ্মীরে দেখা গেল অদ্ভুত ছবি। (donations for Iran)ইরানের প্রতি সংহতি জানাতে জম্মু-কাশ্মীরের বুদগাম জেলায় স্থানীয় বাসিন্দারা সোনা, রুপো এবং নগদ টাকা দান করছেন। এই অভূতপূর্ব উদ্যোগে মানুষজন নিজের গয়না, সোনার আংটি, কানের দুল এবং নগদ অর্থ দিয়ে ইরানকে সাহায্য করার চেষ্টা করছেন। বুদগামের খান্দা গ্রামের মহিলারা বিশেষভাবে সক্রিয় তাদের সোনার গয়না দান করে তারা বলছেন, “ইরানের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব।”
এই দানগুলো ইরানের দূতাবাসে পাঠানো হচ্ছে, যাতে তারা যুদ্ধের সময়ে দেশকে শক্তিশালী করতে পারে।সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মহিলারা লাইনে দাঁড়িয়ে সোনার গয়না জমা দিচ্ছেন। একজন মহিলা বলছেন, “আমরা খাবার ছাড়া বাঁচতে পারি, কিন্তু ইরানের সঙ্গে একতা ছাড়া নয়।” শিশুরা তাদের ঈদের উপহার টাকা দান করছে, একজন আইনজীবী তার পরিবার থেকে ৩১ লক্ষ টাকা সংগ্রহ করে দিয়েছেন।
আরও দেখুনঃ রবির সন্ধেতে হঠাৎ অজিত দোভালকে নিয়ে গোল টেবিলে কেন মোদী
স্থানীয় সংগঠকরা বলছেন, দানের পরিমাণ কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যার মধ্যে সোনা-রুপোর মূল্যও রয়েছে। এগুলো নগদে রূপান্তরিত করে অথরাইজড চ্যানেলের মাধ্যমে ইরানের দূতাবাসে পাঠানো হচ্ছে। এই দানের পিছনে রয়েছে ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধের প্রভাব। ইরানের উপর মার্কিন-ইসরায়েলি আক্রমণের খবরে কাশ্মীরের মুসলিম সম্প্রদায়ে গভীর ক্ষোভ।
তারা বলছেন, ইরান মুসলিম বিশ্বের একটা শক্তিশালী দেশ, যা ফিলিস্তিন এবং প্রতিরোধের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। এই সংহতি শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে বিশেষভাবে দেখা যাচ্ছে, কিন্তু সুন্নি মুসলিমরাও যোগ দিচ্ছেন। একজন দাতা বলেছেন, “আমরা জানি দান কতটা কঠিন, কিন্তু ইরানের জন্য এটা ছোট।” অনেকে বলছেন, ইরানের মতো দেশ যদি দুর্বল হয়, তাহলে মুসলিম উম্মাহর ক্ষতি হবে।
এই ঘটনা জম্মু-কাশ্মীরের রাজনৈতিক-সামাজিক মহলে আলোড়ন তুলেছে। কেউ কেউ এটাকে মানবিক সংহতির উদাহরণ বলছেন, আবার কেউ বলছেন এতে সাম্প্রদায়িকতা বাড়তে পারে। প্রশাসন এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি, কিন্তু দানের প্রক্রিয়া চলছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও ভাইরাল হয়েছে মহিলাদের চোখে জল, হাতে সোনার গয়না, আর মুখে “ইরান জিন্দাবাদ” স্লোগান।




















