রবির সন্ধেতে হঠাৎ অজিত দোভালকে নিয়ে গোল টেবিলে কেন মোদী

নয়াদিল্লি: মধ্য প্রাচ্যে চলতে থাকা যুদ্ধ-উত্তেজনার মাঝে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Modi Ajit Doval)রবিবার সন্ধ্যায় এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে পেট্রোলিয়াম, ক্রুড অয়েল, প্রাকৃতিক গ্যাস,…

modi-ajit-doval-high-level-meeting-energy-security-middle-east-tensions

নয়াদিল্লি: মধ্য প্রাচ্যে চলতে থাকা যুদ্ধ-উত্তেজনার মাঝে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Modi Ajit Doval)রবিবার সন্ধ্যায় এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে পেট্রোলিয়াম, ক্রুড অয়েল, প্রাকৃতিক গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং সার খাতের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং অন্যান্য শীর্ষ মন্ত্রী ও আধিকারিকরা।

বৈঠকের ফোকাস ছিল দেশে জ্বালানি ও সারের অবিরাম সরবরাহ নিশ্চিত করা, লজিস্টিক্স স্থিতিশীল রাখা এবং বিতরণ ব্যবস্থা সুষ্ঠু করা বিশেষ করে যখন পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটে যুদ্ধের ছায়া পড়েছে।পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকার মধ্যে চলমান আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা দিয়েছে। ভারত ক্রুড অয়েল এবং এলএনজি-এর বড় আমদানিকারক, যার বেশিরভাগই মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে।

   

আরও দেখুনঃ DGCA-র নতুন নিয়ম, ফ্লাইট টিকিট বাতিল করলে এক টাকাও খরচ হবে না

হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ ব্যারেল তেল যাতায়াত করে, কিন্তু যুদ্ধের কারণে অনেক শিপিং কোম্পানি যাত্রা বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, এবং ভারতে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সার খাতও প্রভাবিত কারণ ফসফেট এবং পটাশের মতো কাঁচামাল মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসে, যা কৃষকদের জন্য খরচ বাড়াতে পারে।বৈঠকে আধিকারিকরা প্রধানমন্ত্রীকে বিস্তারিত ব্রিফিং দেন।

ক্রুড অয়েলের স্টক, গ্যাসের আমদানি, বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি সরবরাহ এবং সার কারখানাগুলোর কাঁচামালের অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। সরকারের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করা হয় যেমন বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়ানো, স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ ব্যবহার এবং লজিস্টিক্সে বাড়তি নিরাপত্তা। অজিত দোভালের উপস্থিতি বৈঠককে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে, কারণ তিনি নিরাপত্তা দিক থেকে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করেন।

অমিত শাহ এবং রাজনাথ সিং-এর সঙ্গে আলোচনায় দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সামরিক প্রস্তুতির দিকও উঠে আসে। নির্মলা সীতারামন অর্থনৈতিক প্রভাব এবং বাজেটের দিক দেখেন।প্রধানমন্ত্রী মোদী বৈঠকে স্পষ্ট নির্দেশ দেন যে, জনগণের জন্য জ্বালানি ও সারের সরবরাহে কোনো ঘাটতি যেন না হয়। তিনি বলেন, যুদ্ধের পরিস্থিতি যতই জটিল হোক, ভারতের জনগণকে কোনো অসুবিধায় পড়তে দেওয়া যাবে না।

সরকার কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিরাপদ রুট এবং সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। এর আগে ভারতীয় জাহাজগুলো হরমুজ দিয়ে যাত্রা করেছে, যা একটা সাহসী পদক্ষেপ। অজিত দোভালের মতো নিরাপত্তা উপদেষ্টার উপস্থিতি বৈঠককে ‘রবির সন্ধ্যায় বিশেষ তাৎপর্য্যপূর্ণ বলে মনে হয়েছে অনেকের কাছে। কিন্তু এটা সরকারের প্রস্তুতি এবং সতর্কতার প্রমাণ। ভারতের ৮৫% ক্রুড অয়েল আমদানি হয়, আর মধ্যপ্রাচ্য থেকে ৬০%। যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়বে পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়লে পরিবহন, শিল্প এবং কৃষিতে খরচ বাড়বে। যা ভারতে খাদ্য সংকট তৈরী হতে পারে।