চলছিল চোরাচালান! BSF র সার্জিকাল স্ট্রাইকে নিহত ২ অনুপ্রবেশকারী

আগরতলা: ত্রিপুরার সেপাহিজালা জেলার কসবা সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান চলাকালীন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF kills intruders)-এর গুলিতে দুই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাতে। নিহত দুজনকে বাংলাদেশি ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
bsf-kills-bangladeshi-intruders-tripura-border

আগরতলা: ত্রিপুরার সেপাহিজালা জেলার কসবা সীমান্তে চোরাচালানবিরোধী অভিযান চলাকালীন ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (BSF kills intruders)-এর গুলিতে দুই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী নিহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার রাতে। নিহত দুজনকে বাংলাদেশি চোরাচালানকারী বলে শনাক্ত করেছে বিএসএফ।

পরে দুপক্ষের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ দুটি বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে কমলাসাগর সীমান্তের কাছে।স্থানীয় সূত্র ও বিএসএফ জানিয়েছে, শনিবার রাতে কসবা সীমান্তের একটি সংবেদনশীল এলাকায় বিএসএফের টহল দল চোরাচালান সন্দেহে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে চ্যালেঞ্জ করে।

   

আরও দেখুনঃ আত্মঘাতী বিস্ফোরণে ফের রক্তাক্ত পাকিস্তান! দায় স্বীকার IUM র

অভিযোগ রয়েছে, ওই ব্যক্তিরা সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া কেটে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করছিল এবং গরু চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিল। বিএসএফ সদস্যরা তাদের থামার নির্দেশ দিলে তারা উল্টো পাথর ছুড়ে ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে আক্রমণের চেষ্টা করে। আত্মরক্ষার্থে বিএসএফ জওয়ানরা গুলি চালালে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন। আরও দু-তিনজন পালিয়ে বাংলাদেশের দিকে চলে যেতে সক্ষম হয় বলে জানা গেছে।

বিএসএফের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “এটি সম্পূর্ণ আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ। আমাদের জওয়ানরা প্রথমে সতর্কবার্তা দেয় এবং আকাশের দিকে গুলি ছোড়ে। কিন্তু আক্রমণাত্মক আচরণের কারণে বাধ্য হয়ে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে হয়।” ঘটনাস্থল থেকে কিছু চোরাচালানের সরঞ্জাম ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের কাছ থেকে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব প্রমাণকারী কাগজপত্রও পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিএসএফ।

ঘটনার পর উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে দ্রুত ফ্ল্যাগ মিটিং হয় কমলাসাগর এলাকায়। বৈঠকে বিএসএফ নিহত দুজনের মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে। বিজিবি কর্তৃপক্ষ মরদেহ গ্রহণ করে তাদের দেশে ফেরত নিয়ে যায়। এই ধরনের ফ্ল্যাগ মিটিং সীমান্তে শান্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ত্রিপুরা-বাংলাদেশ সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালান, গরু পাচার, অনুপ্রবেশ এবং মাদক চোরাচালানের জন্য পরিচিত। বিশেষ করে কসবা, সোনামুড়া ও ধলাই এলাকায় এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সীমান্তে টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তারপরও চোরাচালানকারীরা নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করছে।

অনেক সময় রাতের অন্ধকারে কাঁটাতার কেটে বা সুড়ঙ্গ খুঁড়ে তারা ভারতে ঢোকার চেষ্টা করে।স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। কেউ কেউ বলছেন, সীমান্তে কঠোর নজরদারি না থাকলে চোরাচালান আরও বেড়ে যাবে। অন্যদিকে কিছু মানুষ মনে করেন, এ ধরনের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ায়।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google