বান্নু: পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়া (suicide attack)প্রদেশের বান্নু জেলায় শনিবার রাতে এক ভয়াবহ আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় অন্তত তিনজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অনেকে। ফাতেহ খেল এলাকার পুলিশ চেকপোস্ট লক্ষ্য করে চালানো এই হামলায় বিস্ফোরণের পর তীব্র গুলিবর্ষণ হয়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
Major attack overnight at Pakistan’s KPK’s Bannu on Pakistani Police personnel. pic.twitter.com/l52xOPUI1X
— Aditya Raj Kaul (@AdityaRajKaul) May 10, 2026
এই ঘটনায় পুর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।পুলিশ ও নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, শনিবার গভীর রাতে অজ্ঞাত জঙ্গিরা বিস্ফোরক বোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে ফাতেহ খেল পুলিশ চেকপোস্টে ধাক্কা দেয়। প্রচণ্ড বিস্ফোরণে চেকপোস্টটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই জোরালো ছিল যে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকায় তা শোনা যায়।
আরও দেখুনঃ বাম জোট ইস্যুতে মমতাকে কটাক্ষ সুপ্রিয়োর, জড়াল I-PAC প্রসঙ্গ
বিস্ফোরণের পরপরই একদল সশস্ত্র হামলাকারী চেকপোস্টের দিকে অগ্রসর হয় এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশের আঞ্চলিক মুখপাত্র সাজ্জাদ খান জানিয়েছেন, চেকপোস্টে দায়িত্বরত প্রায় ১৫ জন পুলিশ সদস্য ছিলেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় অনেকেই ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্তত তিনজনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে।
আহতদের উদ্ধার করে বান্নুর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর কয়েক ঘণ্টা ধরে গুলির শব্দ শোনা গেছে। দুজন সাধারণ নাগরিকও আহত হয়েছেন।হামলার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী বিশাল অভিযান শুরু করে। এলাকা ঘিরে ফেলা হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের খুঁজছে। পুলিশ বলছে, হামলাকারীরা একাধিক দিক থেকে আক্রমণ চালিয়েছে।
কেউ কেউ বলছেন, ড্রোনের সাহায্যও নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনও সরকারি নিশ্চিতকরণ মেলেনি।ইত্তেহাদ-উল-মুজাহিদিন পাকিস্তান নামের একটি জঙ্গি জোট এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। এই জোটটি কয়েকটি স্থানীয় জঙ্গি গোষ্ঠীর সমন্বয়ে গঠিত। আফগান সীমান্তের কাছাকাছি বান্নু জেলা দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গি তৎপরতার কেন্দ্রস্থল। তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (TTP) ও এর সহযোগী গোষ্ঠীগুলো এখানে প্রায়ই হামলা চালায়। পাকিস্তান সরকার আফগানিস্তানকে এসব জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ করে আসছে, যদিও কাবুল তা অস্বীকার করে।




















