বামেদের সঙ্গে নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।(Supriyo on Mamata) তাঁর এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে। একদিকে যখন তৃণমূল নেতৃত্ব বিজেপি বিরোধী বৃহত্তর জোটের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরছে, তখনই দলের অন্দর থেকেই উঠে আসছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। সেই প্রতিক্রিয়া আরও একবার প্রকাশ্যে আনলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক সুপ্রিয়ো চন্দ।
সুপ্রিয়ো চন্দ সরাসরি অভিযোগ করেন যে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি I-PAC-এর পরামর্শে এই ধরনের রাজনৈতিক অবস্থান নিচ্ছেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, তৃণমূলের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াই এবং আদর্শের সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত মেলেনা বলেই তিনি মনে করছেন। বামেদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চলা তাঁদের কাছে যেমন অসম্মানের, তেমনই তৃণমূলের পুরনো কর্মীদের কাছেও তা অপমানজনক বলে দাবি করেন তিনি।
সুপ্রিয়ো চন্দ বলেন, “১৯৯৮ সাল থেকে তৃণমূলের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত ছিলেন, বিশেষ করে যাঁরা কঠিন সময় পার করে দলকে গড়ে তুলেছেন, তাঁদের অনেকেই আজ কোণঠাসা। ২০২১ সালের পর থেকে ২০২২ এবং ২০২৪ সালের বিভিন্ন নির্বাচনে যাঁরা মাঠে নেমে কাজ করেছেন, তাঁদের অনেককেই সাইডলাইনে রাখা হয়েছে।” তাঁর অভিযোগ, দলের অভ্যন্তরে এক ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ মনোভাব তৈরি হয়েছে, যার ফলে বহু পুরনো কর্মী নিজেদের অবমূল্যায়িত মনে করছেন।
তিনি আরও বলেন, “যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে কলেজ রাজনীতি থেকে শুরু করে বামেদের বিরুদ্ধে লড়াই করে তৃণমূলকে প্রতিষ্ঠা করেছেন, তাঁদের কাছেও এই ধরনের জোটের বার্তা অবমাননাকর।” তাঁর মতে, রাজনৈতিক আদর্শের জায়গা থেকে এই সিদ্ধান্ত দলের ভিতরে বিভাজন তৈরি করতে পারে। এদিকে রাজ্য রাজনীতিতে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তৃণমূলের বিভিন্ন স্তরে নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। বিশেষ করে দলের যুব সংগঠনের একাংশ বারবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণকারী সংস্থা I-PAC-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
কলকাতা থেকে শুরু করে জেলাস্তর সব জায়গাতেই দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষের সুর শোনা যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলের দাবি। এরই মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হওয়ায় দলের শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি পাঁচজন নেতাকে শোকজ করেছে। ফলে দলের ভিতরে শৃঙ্খলা ও মতপার্থক্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সুপ্রিয়ো চন্দের বক্তব্য ঘিরে এখন প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূল কি সত্যিই একটি নতুন রাজনৈতিক কৌশলের দিকে এগোচ্ছে, নাকি এটি শুধুমাত্র কৌশলগত বার্তা? বামেদের সঙ্গে সম্ভাব্য সমন্বয়ের ইঙ্গিত এবং দলের অন্দরেই তার বিরোধ এই দুইয়ের মধ্যে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।




















