যোগী রাজ্যেই অজ্ঞাত আততায়ীদের গুলিতে আহত বিজেপি যুব মোর্চার নেতা

bjym-leader-shyam-chetan-tiwari-shot-in-lucknow

লখনউ: লখনউয়ের মেহন্দিগঞ্জ এলাকায় শনিবার রাতে ঘটে গেল এক ভয়ংকর ঘটনা। (BJYM leader)এক প্রাণঘাতী হামলায় বিজেপির যুব শাখা ভারতীয় জনতা যুব মোর্চার (বিজেওয়াইএম) নেতা শ্যাম চেতন তিওয়ারি গুরুতর আহত হয়েছেন। অজ্ঞাত আততায়ীরা তাঁর উপর একাধিক গুলি চালায়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁর অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। এই ঘটনায় পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

   

পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে।ঘটনার বিবরণ অনুসারে, শনিবার রাতে মেহন্দিগঞ্জের বাজারখালা থানার আওতাধীন এলাকায় নিজের বাড়ির সামনে বসে ছিলেন ৩৫ বছর বয়সী চেতন তিওয়ারি। তিনি স্থানীয়ভাবে একটি ফটোগ্রাফি স্টুডিও চালান এবং বিজেওয়াইএমের সক্রিয় কর্মী হিসেবে পরিচিত। হঠাৎ করে একাধিক ব্যক্তি তাঁর কাছে এসে কাছ থেকে গুলি চালায়।

আরও দেখুনঃ রাহুলকে পাশে নিয়ে শপথ গ্রহণ বিজয়ের, জল্পনা তুঙ্গে

গুলি তাঁর কোমরের নিচের অংশে লাগে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গুলির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং চেতনকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে কিং জর্জ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির (কেজিএমইউ) ট্রমা সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, একাধিক গুলি লেগেছে এবং তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল করার জন্য চেষ্টা চলছে।পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই ঘটনার পেছনে পুরনো শত্রুতা কাজ করতে পারে।

লখনউ পুলিশের পশ্চিমাঞ্চলের ডেপুটি কমিশনার কমলেশ দিক্ষিত জানিয়েছেন, স্থানীয় সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তের নাম বৈভব বাজপেয়ী, যিনি একই এলাকার বাসিন্দা এবং বিজেওয়াইএমের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে। তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। পুলিশ অস্ত্রও উদ্ধার করেছে।

মোটিভ এখনও সম্পূর্ণ পরিষ্কার নয়, তবে পুরনো রেষারেষি থেকে এই হামলা হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান।এই ঘটনা লখনউয়ের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। বিজেপি নেতারা এটিকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করেছেন। দলের স্থানীয় নেতৃত্ব ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে, পুলিশ বলছে, এটি ব্যক্তিগত শত্রুতার ফল হতে পারে এবং রাজনৈতিক রঙ দেওয়া ঠিক হবে না।

তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে এত নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাঝেও কীভাবে একজন রাজনৈতিক কর্মী নিজের এলাকায় বসে এমন হামলার শিকার হলেন?চেতন তিওয়ারির পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তিনি সবসময় এলাকার উন্নয়নমূলক কাজে সক্রিয় ছিলেন। যুবকদের নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নিতেন। তাঁর স্টুডিওটিও এলাকার অনেকের কর্মসংস্থানের জায়গা ছিল। হঠাৎ এমন ঘটনায় পরিবার শোকে মুহ্যমান। তাঁর স্ত্রী এবং সন্তানরা হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষা করছেন। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেছেন যে চেতন শিগগিরই সুস্থ হয়ে উঠবেন।