নয়াদিল্লি: উত্তর-পূর্ব ভারতের যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে মোদী সরকার (twin tube rail tunnel)। ব্রহ্মপুত্র নদীর নিচ দিয়ে একটি টুইন-টিউব আন্ডারওয়াটার টানেল নির্মাণের প্রকল্পটি এখন চূড়ান্ত অনুমোদনের দ্বারপ্রান্তে। এই প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ₹১৮,৫০০ থেকে ₹১৮,৬০০ কোটি। ইতিমধ্যে আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি এটিকে সবুজ সংকেত দিয়েছে, এবং ইউনিয়ন ক্যাবিনেটে শীঘ্রই চূড়ান্ত অনুমোদন আসতে পারে।
এটি ভারতের প্রথম এমন আন্ডারওয়াটার টানেল হবে যা রাস্তা ও রেল উভয়ের জন্য ব্যবহারযোগ্য।প্রকল্পের মূল অংশ হলো অসমের গোহপুর (উত্তর তীর) এবং নুমালিগড় (দক্ষিণ তীর)-কে সংযুক্ত করা ১৫.৮ কিলোমিটার লম্বা টুইন-টিউব টানেল। দুটি টিউবের মধ্যে একটিতে রাস্তা যানবাহন চলাচল করবে, অন্যটিতে একটি একক রেল লাইন। রেল টিউবে যখন ট্রেন চলবে, তখন যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। রেল লাইন হবে বিদ্যুৎচালিত এবং ব্যালাস্টলেস ট্র্যাক।
বিপুল জয়ে মসনদে তারেক রহমান, জানেন খালেদা-পুত্রের মোট সম্পত্তির পরিমাণ কত?
পুরো প্রকল্পে টানেল ছাড়াও অ্যাপ্রোচ রোড এবং রেলওয়ে ট্র্যাক মিলিয়ে মোট দৈর্ঘ্য হবে ৩৩.৭ কিলোমিটার। টানেলটি নদীর তলদেশ থেকে প্রায় ৩২ মিটার নিচে নির্মিত হবে।এই টানেল চালু হলে গোহপুর থেকে নুমালিগড় যাওয়ার সময় কমে যাবে বর্তমানের সাড়ে ছয় ঘণ্টা থেকে মাত্র ৩০ মিনিটে। দূরত্বও কমবে ২৪০ কিলোমিটার থেকে মাত্র ৩৪ কিলোমিটারে।
এটি অসমের উত্তর-দক্ষিণ যোগাযোগকে বিপ্লব ঘটাবে। আরও বড় কথা, এর ফলে অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুরসহ উত্তর-পূর্বের অন্যান্য রাজ্যের সঙ্গে সংযোগ অনেক মজবুত হবে। বর্তমানে ব্রহ্মপুত্রের ওপর সেতু বা ফেরি দিয়ে যাতায়াত করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ এবং বর্ষাকালে ঝুঁকিপূর্ণ। টানেল চালু হলে সারাবছর নিরাপদ ও দ্রুত যাতায়াত সম্ভব হবে।প্রকল্পটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো কৌশলগত।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও এতে অংশ নিচ্ছে। যুদ্ধ বা জরুরি অবস্থায় সেনা, অস্ত্রশস্ত্র ও সরঞ্জাম দ্রুত স্থানান্তরের জন্য এই টানেল অত্যন্ত কার্যকর হবে। উত্তর-পূর্বের সীমান্ত এলাকায় চীনের সঙ্গে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি ভারতের প্রতিরক্ষা ক্ষমতাকে অনেক বাড়িয়ে দেবে। রোড ট্রান্সপোর্ট, রেলওয়ে এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যৌথভাবে খরচ বহন করবে।এই প্রকল্প নিয়ে উত্তর-পূর্বের মানুষের মধ্যে উচ্ছ্বাস।
অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এবং স্থানীয় নেতারা এটিকে ‘গেম চেঞ্জার’ বলে অভিহিত করেছেন। বর্ষাকালে বন্যা ও ভূমিধসের কারণে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার সমস্যা অনেকাংশে কমবে। বাণিজ্য, পর্যটন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।তবে চ্যালেঞ্জও কম নয়। ব্রহ্মপুত্র বিশ্বের অন্যতম অশান্ত নদী প্রতি বছর তার গতিপথ বদলায়, ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা।
টানেল নির্মাণে উন্নত প্রযুক্তি (যেমন টিবিএম বা টানেল বোরিং মেশিন) ব্যবহার করতে হবে। পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সমর্থন নিশ্চিত করা দরকার। নির্মাণকাজ শুরু হলে প্রায় ৫-৭ বছর লাগতে পারে।মোদী সরকারের ‘অক্ষর’ এবং ‘অটল’ যোগাযোগ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এটি দেখা হচ্ছে। উত্তর-পূর্বকে মূল ভারতের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ করার লক্ষ্যে এমন বড় প্রকল্পগুলো অব্যাহত। অসমে নির্বাচনের আগে এই ঘোষণা রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ।




















