বীরভূমে ভরাডুবি! দুঃসময় কেষ্ট হারা হওয়ার আশংকা তৃণমূলের

বীরভূম জেলার রাজনীতিতে বড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। (Anubrata Mondal)২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জেলার ১১টি আসনের মধ্যে মাত্র ৬টিতে জয় পেয়ে কার্যত চাপে পড়েছে শাসক দল। এই ফলাফলের ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
anubrata-mondal-birbhum-election-result-controversy

বীরভূম জেলার রাজনীতিতে বড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। (Anubrata Mondal)২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জেলার ১১টি আসনের মধ্যে মাত্র ৬টিতে জয় পেয়ে কার্যত চাপে পড়েছে শাসক দল। এই ফলাফলের পরই রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছেন অনুব্রত মন্ডল। দীর্ঘদিন ধরে যাঁকে বীরভূমে তৃণমূলের অপ্রতিদ্বন্দ্বী মুখ হিসেবে ধরা হত, সেই নেতার প্রভাব এবার প্রশ্নের মুখে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে বীরভূমে তৃণমূলের ফলাফল প্রত্যাশার তুলনায় অনেকটাই খারাপ। জেলার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিজেপির জয় শুধু ভোটের ফলাফলই নয়, সংগঠনের দুর্বলতাকেও সামনে এনেছে। আর সেই জায়গাতেই উঠে আসছে অনুব্রত মণ্ডলের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন। গরু পাচার কেলেঙ্কারিতে জেল খাটার পর দলের সঙ্গে তার দূরত্ব বেড়েছিল। মাঝে দায়িত্তপ্রাপ্ত ওসিকে গালিগালাজ করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হন মমতা ঘনিষ্ট কেষ্ট।

   

আরও দেখুনঃ রাজনৈতিক পালাবদলের ছোঁয়া ময়দানে, বাংলার ফুটবলে বড় বদলের ইঙ্গিত

বিতর্কের কেন্দ্রে থাকার কারণে নির্বাচনের আগে তাঁকে জেলা সভাপতির পদে ফিরিয়ে আনা হয়নি। এই সিদ্ধান্তের পেছনে দলের অন্দরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বড় কারণ বলে মনে করছেন অনেকে। বিশেষ করে কাজল শেখের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব সংগঠনের ভিত দুর্বল করেছে বলে অভিযোগ।প্রচারের ক্ষেত্রেও অনুব্রত মণ্ডলকে আগের মতো সক্রিয় দেখা যায়নি।

বোলপুরে কিছু সভা করলেও সেখানেও তৃণমূলকে হার মানতে হয়েছে। এমনকি তাঁর নিজের এলাকার কয়েকটি বুথেও দলের ফল খারাপ হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও বোলপুর আসন শেষ পর্যন্ত তৃণমূলের দখলেই থেকেছে, তবুও সামগ্রিক ফলাফলকে ‘ভরাডুবি’ হিসেবেই দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

এমন পরিস্থিতিতে আরও গুরুতর অভিযোগও সামনে আসছে। একাংশের দাবি, অনুব্রত মণ্ডল নাকি ভিতরে ভিতরে কিছু আসনে বিজেপির পক্ষে কাজ করেছেন। যদিও এই অভিযোগের কোনও সরকারি প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি, তবুও তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে রাজনৈতিক মহলে। এই ধরনের গুঞ্জন তৃণমূলের অন্দরের অসন্তোষকেই আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

নির্বাচনের আগে অনুব্রত মণ্ডল একাধিকবার আত্মবিশ্বাসী মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বিজেপি যদি ২০০ আসন পায়, তবে তিনি মাথা নেড়া করে ঘুরবেন। কিন্তু ফলাফল প্রকাশের পর থেকে তাঁকে কার্যত নীরব থাকতে দেখা যাচ্ছে। কোনও প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া এখনও দেননি তিনি, যা নিয়েও তৈরি হয়েছে কৌতূহল।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে অনুব্রত মণ্ডলের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পথ কী? তিনি কি তৃণমূলেই থাকবেন, নাকি অন্য কোনও দলে যোগ দেবেন? না কি সক্রিয় রাজনীতি থেকে কিছুটা সরে দাঁড়াবেন? এই সব প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা। জেলা রাজনীতির পর্যবেক্ষকদের মতে, অনুব্রত মণ্ডলের সিদ্ধান্ত শুধু তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নয়, বীরভূমে তৃণমূলের সংগঠনের ভবিষ্যৎ নির্ধারণেও বড় ভূমিকা নেবে। কারণ, এতদিন ধরে তাঁর নেতৃত্বেই এই জেলায় দল নিজেদের শক্ত ঘাঁটি তৈরি করেছিল।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google