কেন্দ্রীয় হারে বকেয়া মহার্ঘ্য ভাতা (ডিএ) নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন চালিয়ে আসছেন রাজ্যের সরকারি কর্মচারীরা। সেই আন্দোলনের আবহেই সোমবার সরকারি কর্মচারী সংগঠনের (Suvendu on DA) প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu on DA) । বৈঠক শেষে বেরিয়ে এসে কর্মচারী সংগঠনের নেতারা যে বার্তা দিয়েছেন, তাতে রাজ্যের লক্ষাধিক সরকারি কর্মচারীর মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। যৌথ সংগ্রামী মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে জানান, আগামী ২২ জুন সরকারি কর্মচারীরা একটি সুখবর পেতে চলেছেন। তাঁর দাবি, (Suvendu on DA) মুখ্যমন্ত্রী নিজেই আশ্বাস দিয়েছেন যে বাজেট পেশের দিন কর্মচারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হবে। সেই ঘোষণায় বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত বিষয়ও থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভাস্কর ঘোষ জানান, (Suvendu on DA) বৈঠকে ডিএ-র বিষয়টি বিস্তারিতভাবে আলোচনা হয়েছে। কর্মচারী সংগঠনের পক্ষ থেকে ৪২ শতাংশ বকেয়া ডিএ দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে দাবি করা হয়েছে, একটি স্থায়ী আদেশনামা জারি করা হোক যাতে ভবিষ্যতে কেন্দ্র সরকার যে হারে ডিএ ঘোষণা করবে, সেই হার অনুযায়ী রাজ্য সরকারি কর্মচারীরাও সুবিধা পান। বকেয়া অর্থ এককালীন না হলেও ধাপে ধাপে মিটিয়ে দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। বৈঠকের পর ভাস্কর ঘোষ বলেন, “আগের সরকার ডিএ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করেনি। কিন্তু বর্তমান সরকার আদালতের নির্দেশ মেনেই এগোতে চায়। সুপ্রিম কোর্ট যা বলেছে, সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখা গিয়েছে।” তাঁর এই মন্তব্যের পর থেকেই ডিএ আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
শুধু ডিএ নয়, (Suvendu on DA) বৈঠকে রাজ্যের শূন্যপদে নিয়োগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে। কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিদের দাবি, আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে অন্তত ৫০ হাজার শূন্যপদে স্বচ্ছতার সঙ্গে নিয়োগ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জানা গিয়েছে, আগামী ৬ অথবা ৭ জুনের মধ্যে নতুন নিয়োগনীতি ঘোষণা করা হতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সরকারি দফতরে কর্মী সংকটের অভিযোগ উঠছিল। সেই প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
সরকারি কর্মচারীদের সংবাদমাধ্যমে কথা বলা নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই বিষয়টিও বৈঠকে উঠে আসে। কর্মচারী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সূত্রের খবর, মুখ্যসচিব স্পষ্ট জানিয়েছেন যে সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকা সব ক্যাডারের কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য নয়। ফলে এই ইস্যুতেও কিছুটা স্বস্তি মিলেছে বলে মনে করছেন কর্মচারীরা। এছাড়াও কর্মচারী সংগঠনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। উত্তর প্রদেশের উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়েছে, সেখানে মুখ্যমন্ত্রী নির্দিষ্ট সময় অন্তর কর্মচারী সংগঠনগুলির সঙ্গে বৈঠক করেন। পশ্চিমবঙ্গেও সেই ধরনের ব্যবস্থা চালু করা হলে প্রশাসন ও কর্মচারীদের মধ্যে সমন্বয় আরও মজবুত হবে। মুখ্যমন্ত্রী এই প্রস্তাব ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করেছেন বলেও জানা গিয়েছে।
তবে ডিএ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ঘোষণা হয়নি। কারণ বিষয়টি বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন। কেন্দ্রীয় হারে বকেয়া ডিএ মেটানোর দাবিতে দায়ের হওয়া মামলার শুনানিতে সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চেয়েছিল, বকেয়া ডিএ মেটানোর বিষয়ে কী অগ্রগতি হয়েছে। সেই সময় রাজ্যের পক্ষ থেকে কিছুটা সময় চাওয়া হয়। আদালত সব পক্ষের বক্তব্য বিবেচনা করে শুনানি পিছিয়ে দেয়। আগামী জুলাই মাসে মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।
ফলে এখন সরকারি কর্মচারীদের নজর ২২ জুনের দিকে। বাজেটের দিন মুখ্যমন্ত্রী কী ঘোষণা করেন এবং ডিএ সংক্রান্ত দাবিদাওয়ার বিষয়ে সরকার কী অবস্থান নেয়, সেটাই দেখার। দীর্ঘদিনের আন্দোলন, আদালতের মামলা এবং রাজনৈতিক চাপের মধ্যে দাঁড়িয়ে আগামী ঘোষণাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সরকারি কর্মচারী মহল।




















