বিট্টু দত্ত, কলকাতা: বাংলার রাজনৈতিক পালাবদলের পর স্বাভাবিকভাবেই পরিবর্তনের ছোঁয়া পড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন ক্ষেত্রে, আর তার ব্যতিক্রম নয় ক্রীড়াঙ্গনও। দীর্ঘদিনের অভ্যাস ভেঙে নতুন সরকার আসার সঙ্গে সঙ্গে ক্রীড়ানীতিতেও বদল আসবে—এটাই এখন সকলের প্রত্যাশা। বিশেষ করে ফুটবলপ্রধান বাংলা ময়দানকে নতুনভাবে গড়ে তোলার সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে। এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—কে হবেন রাজ্যের নতুন ক্রীড়ামন্ত্রী এবং তাঁর পরিকল্পনা কী হতে চলেছে।
এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে সামনে উঠে আসছে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম—ক্রীড়াভারতী। আরএসএসের এই ক্রীড়া সংগঠনটি বহু বছর ধরেই নিঃশব্দে সারা বাংলায় বিভিন্ন ক্রীড়া কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের কাজের পরিধি বিস্তৃত হলেও ফুটবল নিয়ে তাদের উদ্যোগ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। জানা যাচ্ছে, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় তিন হাজারের মতো ফুটবল প্রশিক্ষণ শিবির পরিচালনা করছে এই সংগঠন। পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম, কলকাতা থেকে শুরু করে একাধিক জেলায় ছড়িয়ে রয়েছে এই ক্যাম্পগুলি। কলকাতা শহরেই বর্তমানে প্রায় ২৫টি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সক্রিয় রয়েছে, যা ভবিষ্যতের ফুটবলার তৈরির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
ক্রীড়াভারতীর কাজের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হল—তারা প্রচারের আলো থেকে দূরে থেকেই কাজ করতে পছন্দ করে। ফলে সাধারণ মানুষের কাছে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য পৌঁছয় না। কিন্তু ভিতরে ভিতরে তারা একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করে চলেছে, বিশেষ করে জুনিয়র ফুটবল উন্নয়নের ক্ষেত্রে। বারুইপুর বা উত্তর কলকাতার মতো জায়গায় তাদের উদ্যোগ তারই প্রমাণ। সম্প্রতি আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতের কলকাতা সফরও এই প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তাঁর উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে প্রাক্তন ফুটবলারদের উপস্থিতি ক্রীড়াক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়। এই ধরনের যোগাযোগ ভবিষ্যতে ক্রীড়া উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ক্রীড়াভারতীর সঙ্গে প্রাক্তন ফুটবলারদের নিয়মিত যোগাযোগও এই সংগঠনের পরিকল্পনাকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে। এখন ক্রীড়াভারতীর কর্তারা অপেক্ষা করছেন নতুন ক্রীড়ামন্ত্রীর নাম ঘোষণার জন্য। কারণ, সরকারের সঙ্গে সমন্বয় না করে বড় কোনও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। নতুন মন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরই তারা তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসতে চান এবং বাংলার ক্রীড়ার ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণ করতে চান। বিশেষ করে ফুটবলকে কেন্দ্র করে একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা তৈরির লক্ষ্য রয়েছে তাদের।
প্রাথমিকভাবে তারা কলকাতা ময়দানের বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে বৈঠক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ক্লাবগুলির বাস্তব সমস্যা, পরিকাঠামোর অভাব এবং প্রতিভা উন্নয়নের সুযোগ—এসব বিষয়ে সরাসরি আলোচনা করে একটি বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরি করতে চান তারা। একইসঙ্গে আইএফএ-র সঙ্গেও আলোচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে জানা যায় এতদিন ধরে রাজ্যের ফুটবল প্রশাসন কীভাবে জুনিয়র স্তরে কাজ করেছে এবং কোথায় উন্নতির সুযোগ রয়েছে।
ফুটবলের দায়িত্বে থাকা দীপ দে-র মতো ব্যক্তির উপস্থিতি এই উদ্যোগকে আরও বাস্তবসম্মত করে তুলেছে। নিজে ময়দানে খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় তিনি সমস্যাগুলি কাছ থেকে বোঝেন। তাই তাঁর নেতৃত্বে ক্লাব এবং সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি কার্যকরী পরিকল্পনা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট। সব মিলিয়ে বলা যায়, রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাংলার ফুটবলেও এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। সঠিক পরিকল্পনা এবং সমন্বয়ের মাধ্যমে যদি এই উদ্যোগগুলি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বাংলা আবারও ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম শক্তিকেন্দ্র হিসেবে উঠে আসতে পারে।




















