ঢাকা: শুক্রবার সকালে বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পা রাখলেন ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী (Dinesh Trivedi)। বাংলাদেশের মাটিতে পদার্পণ করেই তিনি দু’দেশের মধ্যে বন্ধুত্ব, ঐতিহাসিক বন্ধন এবং ভবিষ্যতের একাত্মতার মধুর বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন। এই আগমনকে দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক নতুন করে সুসংহত করার এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
Indian High Commissioner (designate) to Bangladesh, Shri Dinesh Trivedy ji has stepped into the soil of Bangladesh with the cordial message of friendship, bondage and togetherness. pic.twitter.com/s5iRJbetqA
— Salah Uddin Shoaib Choudhury (@salah_shoaib) June 12, 2026
দিনেশ ত্রিবেদী,একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ, ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের ঘোষণা অনুসারে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে বাংলাদেশে ভারতের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পান। সাধারণত ক্যারিয়ার ডিপ্লোম্যাটদের এই দায়িত্ব দেওয়া হয়ে থাকে, কিন্তু এবার একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে বেছে নেওয়ায় কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
আরও দেখুনঃ ‘মমতার তৃণমূল’ ছাড়ছেন মহুয়া ? জল্পনা উসকে দলের বিস্ফোরক ‘বিদ্রোহী’ বাসুনিয়া
৭৫ বছর বয়সী ত্রিবেদী পূর্বতন হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার জায়গায় দায়িত্ব নেবেন।বেনাপোল স্থলবন্দরে পৌঁছানোর পর বাংলাদেশের কর্মকর্তারা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। সেখান থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন তিনি। আগমনকালে দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, “ভারত ও বাংলাদেশ দুই ভাইয়ের দেশ। আমাদের মধ্যে রক্তের সম্পর্ক, সংস্কৃতির মিল এবং ইতিহাসের গভীর বন্ধন রয়েছে। আমি এখানে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে এসেছি।
দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্প্রীতি, সহযোগিতা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ আরও দৃঢ় করাই আমার লক্ষ্য।”দুই দেশের সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই নিয়োগকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কে কিছুটা চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। হিন্দু হত্যা, অবৈধ অনুপ্রবেশ , জল বণ্টন, বাণিজ্য এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা নিয়ে কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছে।
এমন সময়ে একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদের আগমন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মেরামত এবং নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দিচ্ছে।দিনেশ ত্রিবেদী পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ রয়েছে। রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁর এই অভিজ্ঞতা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ১৫ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি। গঙ্গার জল বণ্টন চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রাক্কালে এই সম্পর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে, নতুন হাইকমিশনারের আগমনকে স্বাগত জানানো হয়েছে। ঢাকায় পৌঁছানোর পর তিনি শীঘ্রই দায়িত্ব বুঝে নেবেন এবং বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে বিভিন্ন স্তরে আলোচনা শুরু করবেন।



















