কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ফাটল ক্রমশ বড় হচ্ছে। (Ritabrata Banerjee)তার সঙ্গেই প্রকাশ্যে আসছে গণতন্ত্রের হত্যার ঘটনা। বহিষ্কৃত নেতা ও রাজ্যের বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দলের সাংসদদের প্রশ্ন না তোলার ঘটনায় ২০-এর বেশি সাংসদ জড়িত থাকলেও তিনি অবাক হবেন না। তিনি বলেছেন, দলীয় সংসদীয় কার্যক্রম সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে চালানো হচ্ছিল। তিনি অভিযোগ করেছেন সাংসদরা নিজেদের এলাকার উন্নয়নের প্রশ্ন করতেই পারতেন না। প্রশ্ন করে পাঠানো হত রিসার্চ টিম থেকে।
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি একটি চিঠি নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ওই চিঠি জনসমক্ষে আসার পর তিনি প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেন, “আমি ওই চিঠি দেখেছি। যদি ২০-এর বেশি সাংসদের নামও থাকে, তাহলেও আমি মোটেই অবাক হব না। কারণ যেভাবে সংসদীয় দল চালানো হচ্ছিল, তা সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক ও নীতিবিরুদ্ধ। একজন সাংসদের ব্যক্তিগত অধিকার রয়েছে প্রশ্ন তোলার। কিন্তু শেষ অধিবেশনে আমি একটিও প্রশ্ন দিইনি।
আরও দেখুনঃসায়নী থেকে অভিষেক একাধিক নাম টেনে বিধানসভায় তোপ দাগলেন তাপস রায়
কারণ রিসার্চ টিম থেকে প্রশ্ন পাঠানো হতো। তাদের ওপর কীভাবে ভরসা করব?”তিনি আরও যোগ করেন, “এটা গণতন্ত্রের মৌলিক নীতির বিরুদ্ধে। সাংসদরা শুধুমাত্র পার্টির নির্দেশ মেনে চলবেন, নিজের এলাকার সমস্যা তুলবেন না এটা কোন গণতন্ত্র?” ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ ক্ষোভ ও নিয়ন্ত্রণের ধরন নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।দীর্ঘদিন তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত থাকা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় পরে দল থেকে বহিষ্কৃত হন।
বর্তমানে তিনি রাজ্য রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকায় রয়েছেন এবং বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর অভিযোগ, দলের মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চার অভাব রয়েছে। সাংসদদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা খর্ব করা হচ্ছে। রিসার্চ টিমের মাধ্যমে প্রশ্ন নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিকে তিনি সরাসরি গণতন্ত্রবিরোধী বলে চিহ্নিত করেছেন।রাজ্য রাজনৈতিক মহলে এই মন্তব্য ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা এই অভিযোগকে ‘পুরনো ক্ষোভ’ বলে উড়িয়ে দিলেও, বিরোধী শিবির এটিকে দলের অভ্যন্তরীণ সংকট হিসেবে তুলে ধরছে। বিজেপি ও অন্যান্য বিরোধী দলের নেতারা বলছেন, তৃণমূলে একচ্ছত্র নেতৃত্বের কারণে সাংসদ ও বিধায়কদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নেই। ফলে দলের অনেকেই অসন্তুষ্ট।ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে উঠে এসেছে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তিনি বলেছেন, সংসদে প্রশ্ন তোলা একজন জনপ্রতিনিধির মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু যদি দলীয় নেতৃত্ব থেকে প্রশ্ন নির্ধারণ করে দেওয়া হয় এবং সাংসদকে শুধুমাত্র সেই প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করতে হয়, তাহলে জনগণের প্রতিনিধিত্ব কোথায়? তাঁর মতে, এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ দলকে দুর্বল করে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ক্ষুণ্ণ করে।



















