লখনউ: উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে করণী সেনার বড় রাজনৈতিক ঘোষণা। (Karni Sena)দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির সমর্থক হিসেবে পরিচিত এই সংগঠন এবার সরাসরি নির্বাচনী ময়দানে নামার ইঙ্গিত দিয়েছে। করণী সেনার প্রধান সুরজপাল সিং ‘অম্মু’ ঘোষণা করেছেন যে, আসন্ন উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে তাঁদের সংগঠন ৫০টি আসনে প্রার্থী দেবে। সোমবার শাহজাহানপুরে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে এই ঘোষণা করার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুরজপাল সিং অম্মু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে সম্মান করি, কিন্তু আমরা বিজেপির গোলাম নই। আমরা উত্তরপ্রদেশের ৫০টি আসনে নির্বাচন লড়ব।” তাঁর এই মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়, বিজেপির প্রতি দীর্ঘদিনের সমর্থন থাকা একটি প্রভাবশালী সংগঠনের অসন্তোষকেও প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।
আরও দেখুনঃ ভেঙে গেল পুর বোর্ড! কলকাতা পুরসভার অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক স্মিতা পান্ডে
রাজনৈতিক সূত্রের মতে, এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে আসন বণ্টন এবং রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিয়ে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ। করণী সেনা দাবি করে আসছিল যে, উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে রাজপুত বা ক্ষত্রিয় সমাজের অবদান ও প্রভাবের তুলনায় তাদের যথাযথ রাজনৈতিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। গত রবিবারও সুরজপাল সিং বিজেপির কাছে ২৫টি বিধানসভা আসনে প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ চেয়েছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু সেই দাবির বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ার পর মাত্র একদিনের মধ্যেই তিনি আরও বড় ঘোষণা করে বসেন।
শাহজাহানপুরের সম্মেলনে তিনি সরাসরি আঞ্চলিক নেতা ও মন্ত্রীদের প্রসঙ্গও তোলেন। বিশেষ করে ওম প্রকাশ রাজভরের নাম উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “যখন রাজভরের মতো একজন অযোগ্য মানুষকে আপনারা মন্ত্রী বানিয়ে দিতে পারেন, তখন আমরা কেন নির্বাচন লড়তে পারব না?” এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। কারণ এর মাধ্যমে শুধু বিজেপির সিদ্ধান্তকেই চ্যালেঞ্জ করা হয়নি, বরং জোট রাজনীতির বর্তমান কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
উত্তরপ্রদেশে করণী সেনার প্রভাব মূলত রাজপুত বা ক্ষত্রিয় সমাজের মধ্যে বেশি। এই সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরেই বিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। ফলে করণী সেনা যদি সত্যিই এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়, তাহলে তার প্রভাব বিজেপির ভোটের অঙ্কে পড়তে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই ঘোষণা আপাতত বিজেপির উপর চাপ তৈরির কৌশলও হতে পারে। অতীতেও বিভিন্ন সামাজিক ও জাতিভিত্তিক সংগঠন নির্বাচনের আগে নিজেদের রাজনৈতিক গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য এমন অবস্থান নিয়েছে। শেষ পর্যন্ত তারা সরাসরি ভোটে লড়াই করেছে কি না, সেটাই ছিল বড় প্রশ্ন। ফলে করণী সেনার ক্ষেত্রেও এখনই নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
অন্যদিকে বিজেপি এখনও এই ঘোষণার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, যদি করণী সেনা তাদের অবস্থানে অনড় থাকে এবং ৫০টি আসনে প্রার্থী দেয়, তাহলে উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ হবে। বিশেষ করে রাজপুত ভোটের একাংশ যদি বিজেপি থেকে সরে যায়, তাহলে তার প্রভাব একাধিক আসনে দেখা যেতে পারে।




















