এনডিএ-তে যোগ তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের! নেতৃত্বে কাকলি ঘোষ দস্তিদার

নয়াদিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধরনের ভাঙনের ইঙ্গিত। (TMC Rebel)লোকসভায় তৃণমূলের একাংশের সাংসদরা সরাসরি এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন।…

tmc-rebel-mps-join-nda-kakoli-ghosh-dastidar

নয়াদিল্লি: তৃণমূল কংগ্রেসে বড় ধরনের ভাঙনের ইঙ্গিত। (TMC Rebel)লোকসভায় তৃণমূলের একাংশের সাংসদরা সরাসরি এনডিএ-তে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন। এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতৃত্বে রয়েছেন তৃণমূলের লোকসভা নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি জানিয়েছেন, তাঁকে নিয়ে অন্তত ২০ জন সাংসদ এই চিঠিতে সই করেছেন।

দীর্ঘ আলোচনার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।কাকলি ঘোষ দস্তিদার লোকসভায় তৃণমূলের এই নতুন ব্লকের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন এবং ডেপুটি নেতা হবেন শতাব্দী রায়। সূত্রের খবর, আরও কয়েকজন সাংসদ সই করার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন। এই উন্নয়ন তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে এবং রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

   

আরও দেখুনঃ ফের অভিষেককে নোটিস দিতে কালীঘাটের বাড়িতে CID! মঙ্গলেই অমঙ্গলের সম্ভবনা

লোকসভায় যাঁরা এই নতুন ব্লকের বাইরে রয়েছেন তাঁরা হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, সায়নী ঘোষ, মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায় ও কীর্তি আজাদ। রাজ্যসভায় এই গোষ্ঠীর বাইরে রয়েছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, দোলা সেন, সাগরিকা ঘোষ, মানেকা গুরুস্বামী ও বাবুল সুপ্রিয়।কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, “দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র, সাংসদদের মতামতের মূল্যায়ন এবং রাজ্যের স্বার্থের কথা ভেবে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের অভিযোগগুলো কেউ শোনেনি।

তাই আমরা এনডিএ-র সঙ্গে যুক্ত হয়ে রাজ্যের উন্নয়নে কাজ করতে চাই।” তিনি আরও জানান, সাংসদদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর এই চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এই বিদ্রোহ গভীর অসন্তোষেরই প্রতিফলন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা, একক নেতৃত্বের প্রতি ক্ষোভ এবং সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলের পর থেকেই বিভিন্ন স্তরে অসন্তোষ বাড়ছিল। অনেক সাংসদ মনে করছেন, দলের বর্তমান নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁদের আর স্বাচ্ছন্দ্য নেই।

বিজেপি শিবিরে অবশ্য এই ঘটনাকে বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, “তৃণমূলের ভিত নড়বড়ে হয়ে গেছে। সৎ ও উন্নয়নকামী নেতারা এখন এনডিএ-র ছাতার তলায় আসছেন।” এদিকে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেয়নি, তবে দলের একাংশ এটিকে ‘বিজেপির ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করছে।

রাজ্য রাজনীতিতে এই ঘটনার প্রভাব অনেক দূরগামী হতে পারে। যদি ২০ জনের বেশি সাংসদ সত্যিই এনডিএ-তে যোগ দেন, তাহলে লোকসভায় তৃণমূলের শক্তি অনেকটাই কমে যাবে। একই সঙ্গে আগামী বিধানসভা নির্বাচনেও এর প্রভাব পড়বে। অনেকে মনে করছেন, এটি শুধু সাংসদদের বিদ্রোহ নয়, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়েরও বহিঃপ্রকাশ।