নয়াদিল্লি: বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর ঘরে ভাঙন ধরেছে। ওদিকে দিল্লিতে দলনেত্রীর উপস্থিতিতেই লোকসভায় দু’ভাগ হয়ে গিয়েছে তৃণমূলের সংসদীয় দল। রাজনীতির এমন এক চরম কঠিন দিনে দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ইন্ডি (INDIA) জোটের সাংবাদিক বৈঠকে সম্পূর্ণ অন্য এক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেখল রাজনৈতিক মহল। চিরপরিচিত সেই আক্রমণাত্মক মেজাজ উধাও, কার্যত বিধ্বস্ত ও স্তব্ধ তৃণমূল সুপ্রিমো গোটা সাংবাদিক বৈঠকে প্রায় সাড়ে সাত মিনিট চুপ করেই রইলেন। সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে, সবার আগে মঞ্চ ছেড়ে উঠে গেলেন তিনি। পুরো সময়ে তাঁর মুখ থেকে বেরোল মাত্র দুটি শব্দ, তাও আবার পাশে বসা কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গেকে জোটের সিদ্ধান্তের কথা মনে করিয়ে দিতে। (Mamata Banerjee Silent at INDIA Alliance Meeting)
খাড়্গেকে মনে করালেন ‘অ্যাট্রোসিটি’ ও ‘ভার্চুয়ালি’
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের ঠিক ডানপাশে বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জোটের নেওয়া ৫টি সিদ্ধান্তের কথা একে একে জানাচ্ছিলেন খাড়্গে। ৩ নম্বর পয়েন্টে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি ও কৃষক ইস্যুতে কেন্দ্রের কাছে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার দাবি জানাচ্ছিলেন তিনি। খাড়্গে পরের পয়েন্টে যেতেই মমতা ফিসফিস করে তাঁকে মনে করিয়ে দেন প্রথম শব্দটি, ‘অ্যাট্রোসিটি’ (নৃশংসতা)। খাড়্গে তৎক্ষণাৎ নিজের ভুল শুধরে ৩ নম্বর পয়েন্টের সঙ্গে দেশের নৃশংসতা ইস্যুটিকেও যুক্ত করেন।
এরপর খাড়্গে যখন জানান যে, এদিনের বৈঠকে সশরীরে উপস্থিত না থাকলেও শিবসেনা প্রধান উদ্ধব ঠাকরে এবং ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন এই ৫টি সিদ্ধান্তে সম্মতি জানিয়েছেন, তখন মমতা খাড়্গেকে দ্বিতীয় শব্দটি বলেন, ‘ভার্চুয়ালি’। অর্থাৎ তাঁরা যে ভার্চুয়ালি বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন, সেই তথ্যটি তিনি খাড়্গেকে স্মরণ করিয়ে দেন। এই দুটি শব্দ ছাড়া পুরো সাংবাদিক বৈঠকে আর কোনও কথাই বলেননি মমতা।
রুদ্ধদ্বার বৈঠকে বাংলার হার নিয়ে সরব তৃণমূল সুপ্রিমো
সাংবাদিক বৈঠকে চুপ থাকলেও, ইন্ডি জোটের মূল রুদ্ধদ্বার বৈঠকে অবশ্য নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় সূত্রে খবর, বৈঠকে তিনি দাবি করেছেন, জোর করে বাংলায় তৃণমূলকে হারানো হয়েছে। জোটের বাকি নেতাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, “আজ যা বাংলায় (তৃণমূলের সঙ্গে) হয়েছে, তা আগামী দিনে অন্যান্য রাজ্যেও হবে।” পাশাপাশি, সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হওয়া হামলার ঘটনাটিও তিনি জোটের বৈঠকে আলাদাভাবে উল্লেখ করেন। উল্লেখ্য, ২৫টি দল এই বৈঠকে অংশ নিলেও এদিন ডিএমকে (DMK) এবং আপ (AAP)-এর কোনও প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।
রাজনীতির রাশ কি হারাচ্ছেন মমতা?
তৃণমূল যখন বাংলায় ক্ষমতায় ছিল, তখন দিল্লির দরবারে ইন্ডি জোটের রাশ নিজের হাতে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করতে দেখা যেত মমতাকে। আসন সমঝোতা থেকে শুরু করে জোটের রূপরেখা তৈরিতে বরাবরই চালকের আসনে থাকতেন তিনি, এমনকি কংগ্রেসের সমালোচনা করতেও ছাড়তেন না। কিন্তু বাংলায় ক্ষমতা হারানোর পর এবং দিল্লিতে নিজের নাকের ডগায় দল ভাঙার দিনে মমতার এই ‘বিধ্বস্ত’ রূপ দেখে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে কি বাংলার পাশাপাশি জাতীয় রাজনীতিতেও ইন্ডি জোটের রাশ হারাচ্ছেন তৃণমূল সুপ্রিমো? উত্তর খুঁজছে ওয়াকিবহাল মহল।




















