বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক জিহাদিদের

ঢাকা: বাংলাদেশে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। (Bangladesh)দেশের কিছু ইসলামপন্থী গোষ্ঠী ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বয়কটের ডাক দিয়ে ফতোয়া জারি করেছে।…

bangladesh-world-cup-boycott-call

ঢাকা: বাংলাদেশে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। (Bangladesh)দেশের কিছু ইসলামপন্থী গোষ্ঠী ফিফা বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে বয়কটের ডাক দিয়ে ফতোয়া জারি করেছে। তাঁরা দাবি করেছেন, মুসলিমরা ব্রাজিল বা আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করতে পারবেন না। কারণ এই দুই দেশ নাকি ‘মুসলিমদের ওপর আক্রমণ করে, মসজিদে আজান দিতে দেয় না এবং ইসরায়েলকে সমর্থন করে’।

   

এই ফতোয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ ফুটবল ভক্তরা পড়েছেন দ্বিধায় বিশ্বকাপ দেখবেন, নাকি বয়কট করবেন?বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার সমর্থকদের উন্মাদনা সবসময়ই চোখে পড়ার মতো। রাস্তায় রাস্তায় পতাকা, টি-শার্ট, চায়ের দোকানে তর্ক-বিতর্ক এটাই যেন দেশের ঐতিহ্য। কিন্তু এবার সেই উন্মাদনার মাঝে ধর্মীয় ফতোয়া এসে জটিলতা তৈরি করেছে।

আরও দেখুনঃ ইন্ডি জোটের বৈঠকে বিধ্বস্ত মমতা! ৭ মিনিটে মুখে মাত্র দুটি শব্দ, সবার আগে ছাড়লেন মঞ্চ

কয়েকটি জিহাদি ও ইসলামপন্থী সংগঠন সোশ্যাল মিডিয়া ও মসজিদের মাধ্যমে প্রচার চালাচ্ছে যে, এই দুই দেশকে সমর্থন করা ইসলামবিরোধী কাজ। তাঁদের অভিযোগ, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা মুসলিম বিশ্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং ইসরায়েলের পক্ষে রয়েছে।ফুটবল ভক্তরা এখন বিভ্রান্ত। ইসলামপন্থী নেতারা অবশ্য তাঁদের অবস্থানে অনড়। তাঁরা বলছেন, মুসলিম হিসেবে অমুসলিম দেশগুলোর যেসব কর্মকাণ্ড মুসলিমদের ক্ষতি করে, সেগুলোকে সমর্থন করা উচিত নয়।

কেউ কেউ আরও চরম বক্তব্য দিয়ে বলছেন, বিশ্বকাপ দেখা বা উদযাপনও বর্জন করা উচিত। তবে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে এই ডাকে ব্যাপক সমর্থন নেই। অধিকাংশই মনে করেন, খেলা আর রাজনীতি আলাদা রাখা উচিত।বাংলাদেশে ফুটবলের জনপ্রিয়তা অসাধারণ। দেশ কখনো বিশ্বকাপে খেলেনি, অথচ প্রতি চার বছর অন্তর পুরো দেশ যেন দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায় ব্রাজিল সমর্থক আর আর্জেন্টিনা সমর্থক।

এই দুই দলের ম্যাচকে কেন্দ্র করে অতীতে রাস্তায় সংঘর্ষও হয়েছে। এবার ধর্মীয় ফতোয়া সেই উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এ ধরনের ফতোয়া সমাজে বিভেদ তৈরি করে। বিশেষ করে যুবসমাজের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ায়। তাদের মতে মৌলবাদী সংগঠনগুলি ধর্মের নাম দিয়ে মানুষকে উস্কানি দিতে চাইছে। তারা বোঝাতে চাইছে যে তারা ধর্মকে ভালোবাসে কিন্তু বাস্তবে তারা দেশের মানুষকে উত্তেজিত করতে চায় এবং দেশে অশান্তি ছড়াতে চায়।