‘মেসি কাণ্ডে’ প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের অস্বস্তি ক্রমশ বাড়ছে। এরই মধ্যে সোমবার বেহালার সাহাপুর কলোনিতে অবস্থিত অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের ফ্ল্যাটে বড়সড় তল্লাশি (Police Raid) অভিযান চালাল পুলিশ। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ বিশাল পুলিশবাহিনী ওই আবাসনে পৌঁছয় এবং দীর্ঘ চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চিরুনি তল্লাশি চালায়।
অভিযানের সময় গোটা আবাসন (Police Raid) ঘিরে ফেলে কেন্দ্রীয় বাহিনী। নিরাপত্তার স্বার্থে সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়। যে ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালানো হয়, সেখানে স্বরূপ বিশ্বাস সপরিবারে বসবাস করতেন বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা ফ্ল্যাটের প্রতিটি অংশ খুঁটিয়ে পরীক্ষা করেন এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি ও তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালান। তল্লাশির সময় একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। (Police Raid) সাহাপুর কলোনির ওই আবাসনের তৃতীয় ও চতুর্থ তলায় থাকা দুটি ফ্ল্যাটের মধ্যে একটি ঘরের ভিতরে আরও একটি রহস্যময় কক্ষের সন্ধান পান তদন্তকারীরা। পুলিশ সূত্রে খবর, ওই ঘরটি সাধারণভাবে খোলা সম্ভব ছিল না। কক্ষটির দরজা বিশেষভাবে সুরক্ষিত ছিল এবং সেটিতে ডিজিটাল লক ব্যবহৃত হয়েছিল।
ঘরটি খোলার জন্য পুলিশ কাঠমিস্ত্রি এবং তালা ভাঙার বিশেষজ্ঞদেরও ঘটনাস্থলে ডেকে আনে। দীর্ঘ চেষ্টা সত্ত্বেও ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে কক্ষটি খোলা সম্ভব হয়নি বলে জানা গিয়েছে। ফলে সেই রহস্যময় ঘরের ভিতরে কী রয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘটনাই তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
অন্যদিকে, স্বরূপ বিশ্বাস বর্তমানে আইনি (Police Raid) জটিলতার মধ্যে রয়েছেন। আর ভাইয়ের পরিস্থিতির পাশাপাশি প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসও ক্রমশ চাপে পড়ছেন। ‘মেসি কাণ্ডে’ তাঁর নাম জড়ানোর পর থেকেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার ডাকে এখনও পর্যন্ত তিনি বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেননি বলে জানা গিয়েছে।
আইনি সুরক্ষা পাওয়ার আশায় অরূপ বিশ্বাস কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে আদালতের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ মেলেনি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তের গতি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, আদালতের তরফে তাৎক্ষণিক স্বস্তি না মেলায় তাঁর গ্রেফতারির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।




















