ভেঙে গেল পুর বোর্ড! কলকাতা পুরসভার অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক স্মিতা পান্ডে

কলকাতা: কলকাতা পুরসভার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হলো সোমবার। (Municipal Corporation)পশ্চিমবঙ্গ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কলকাতা পুরসভার নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দিয়ে সেখানে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক নিয়োগ করেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
kmc-board-dissolved-smita-pandey-administrator

কলকাতা: কলকাতা পুরসভার ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হলো সোমবার। (Municipal Corporation)পশ্চিমবঙ্গ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কলকাতা পুরসভার নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দিয়ে সেখানে অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসক নিয়োগ করেছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়া দেশের অন্যতম বৃহত্তম পুরনিগম এখন প্রশাসকের অধীনে পরিচালিত হবে। রাজ্যের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৯৮০ সালের কলকাতা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন অ্যাক্টের ১১৮ নম্বর ধারার ১ উপধারার (b) ক্লজ অনুসারে রাজ্যপালের অনুমোদনক্রমে কলকাতা পুরসভার বর্তমান মিউনিসিপ্যাল কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে পুরসভার প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। এই নির্দেশ কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরসভার নির্বাচিত বোর্ডের সমস্ত ক্ষমতা প্রশাসকের হাতে চলে যায়।

   

আরও দেখুনঃ হ্যাল-এর গৃহীত প্রধান প্রকল্পগুলির অগ্রগতি নিয়ে আলোচনায় রাজনাথ

প্রশাসনিক সূত্রের খবর, এই অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে এবং সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত বহাল থাকবে। তবে এর আগেই যদি নতুন নির্বাচিত কাউন্সিলররা দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তাহলে প্রশাসকের মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হবে। ততদিন পর্যন্ত কলকাতা পুরসভার সমস্ত প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, উন্নয়নমূলক প্রকল্প, নাগরিক পরিষেবা এবং আর্থিক বিষয়গুলির দেখভালের দায়িত্ব পালন করবেন স্মিতা পাণ্ডে।

এই নাটকীয় প্রশাসনিক পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা। গত ৫ জুন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম পদত্যাগ করার পর থেকেই পুর প্রশাসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। আইনি বিধান অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নতুন মেয়র নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেই সময়সীমার মধ্যে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন করা সম্ভব হয়নি। সূত্রের দাবি, ৭২ ঘণ্টার আইনি ডেডলাইন অতিক্রম হয়ে যাওয়ার পরই সরকার কলকাতা পুরসভার নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

বোর্ড বিলুপ্ত হওয়ার ফলে শুধু মেয়রের পদই নয়, ডেপুটি মেয়র, মেয়র-ইন-কাউন্সিল (MMIC) সদস্য এবং সমস্ত কাউন্সিলরের প্রশাসনিক ক্ষমতাও বাতিল হয়েছে। এর ফলে কলকাতা পুরসভার কার্যত সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ এখন প্রশাসনিক কাঠামোর হাতে চলে গেল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক নয়, রাজনৈতিক দিক থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

কলকাতা পুরসভা প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ নাগরিককে বিভিন্ন পরিষেবা প্রদান করে। পানীয় জল সরবরাহ, বর্জ্য অপসারণ, রাস্তা সংস্কার, স্বাস্থ্য পরিষেবা, সম্পত্তি কর সংগ্রহসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে এই প্রতিষ্ঠান। ফলে প্রশাসক নিয়োগের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, নাগরিক পরিষেবার উপর এর কোনও প্রভাব পড়বে কি না। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, পুরসভার দৈনন্দিন কাজকর্ম স্বাভাবিকভাবেই চলবে এবং পরিষেবা প্রদানে কোনও ব্যাঘাত ঘটবে না।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google