নয়াদিল্লি: বাংলার রাজনীতিতে একের পর এক নয়া মোড়। ঠিক যেন সাসপেন্স থ্রিলার। (Suvendu Adhikari)এই থ্রিলারের উত্তেজনা বাড়িয়ে তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ের দিল্লির বাসভবনে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা ও চর্চা শুরু হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই বৈঠক এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে যখন তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভা সংসদীয় দলের মধ্যে বড়সড় ভাঙনের খবর সামনে এসেছে।
সূত্রের খবর, সোমবার বিকেলে শতাব্দী রায়ের দিল্লির বাসভবনে একটি বিশেষ চা-চক্র ও অনানুষ্ঠানিক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক অসন্তুষ্ট ও বিদ্রোহী সাংসদ। রাজনৈতিক মহলে যাঁদের এখন ‘বিদ্রোহী ব্লক’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে, তাঁদের মধ্যে ছিলেন বাপি হালদার, শর্মিলা সরকার, আবু তাহের, খলিলুর রহমান, জগদীশ বসুনিয়া এবং অসিত মাল-সহ আরও কয়েকজন সাংসদ। এই বৈঠকের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায় যখন সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত হন বলে জানা যায়।
রাজনৈতিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদদের একাংশ ইতিমধ্যেই বিজেপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় গণতান্ত্রিক জোট বা এনডিএ-কে সমর্থন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রবীণ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে প্রায় ২০ জন সাংসদ লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে লিখিতভাবে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছেন বলেও খবর সামনে এসেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।
আরও দেখুনঃ শুভেন্দু বৈঠক শেষেই বাংলার কৃষিতে নয়া যুগের ঘোষণা শিবরাজ সিং চৌহানের
এই প্রেক্ষাপটে শতাব্দী রায়ের বাড়িতে অনুষ্ঠিত বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে পরিচিত শতাব্দী রায়ের বাসভবনেই এই বৈঠকের আয়োজন হওয়া এবং সেখানে বিদ্রোহী সাংসদদের উপস্থিতি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে অনেকের ধারণা।
শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতি এই জল্পনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই বৈঠকে যোগদান নিছক সৌজন্যমূলক ছিল, নাকি এর পিছনে বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিকল্পনা রয়েছে তা নিয়েই এখন আলোচনা চলছে। যদিও বৈঠক শেষে কোনও পক্ষই আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেননি, ফলে বৈঠকের প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে ধোঁয়াশা থেকেই গেছে।
এদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ বাড়ছে বলেও রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি। কারণ, যদি সত্যিই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সাংসদ দলীয় অবস্থান থেকে সরে এসে নতুন রাজনৈতিক পথ বেছে নেন, তাহলে তা শুধু সংসদীয় রাজনীতিতেই নয়, বাংলার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।




















