IND vs AFG: নবগঠিত ভারতীয় টেস্ট দলের জন্য এই ম্যাচ ছিল আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার মঞ্চ। আর সেই মঞ্চেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে নজর কাড়লেন অভিষিক্ত স্পিনার মানব সুথার। তাঁর ঘূর্ণির জাদুতেই আফগানিস্তানকে একপ্রকার উড়িয়ে দিয়ে ৩০০ রানের বিশাল ব্যবধানে টেস্ট জিতল ভারত। যদিও এই ম্যাচ বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অন্তর্ভুক্ত নয়, তবুও শ্রীলঙ্কা সফরের আগে ভারতীয় শিবিরের জন্য এই জয় নিঃসন্দেহে বড় প্রাপ্তি।
প্রথম ইনিংসে ভারত ব্যাট হাতে একতরফা আধিপত্য বিস্তার করে। অধিনায়ক শুভমান গিলের নেতৃত্বে ব্যাটাররা বড় রান সংগ্রহ করেন এবং দ্বিতীয় দিনের শেষে ভারতের স্কোর পৌঁছে যায় পাহাড়প্রমাণ উচ্চতায়। তৃতীয় দিনের শুরুতে ৫৬৪ রানে ইনিংস ঘোষণা করে ভারত। সেই বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমেই চাপে পড়ে আফগানিস্তানের ব্যাটিং বিভাগ।
ম্যাচের দ্বিতীয় দিন থেকেই আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন মানব সুথার। দেশের হয়ে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমে তিনি শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী বোলিং করেন। দ্বিতীয় দিনের শেষে দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নিয়ে আফগানদের ব্যাটিংয়ে ধাক্কা দেন। তৃতীয় দিনের সকালে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন তরুণ এই বাঁহাতি স্পিনার। ধারাবাহিকভাবে উইকেট তুলে নিয়ে আফগান ব্যাটারদের সম্পূর্ণ অসহায় করে দেন তিনি।
প্রথম ইনিংসে ২২ ওভার বল করে মাত্র ৩৩ রান খরচায় ৬ উইকেট নেন সুথার। টেস্ট অভিষেকে এমন পারফরম্যান্স যে কোনও বোলারের কাছেই স্বপ্নের সমান। তাঁর নিখুঁত লাইন-লেন্থ এবং টার্নের সামনে আফগান ব্যাটাররা কোনও উত্তর খুঁজে পাননি। ফলে ৫৬৪ রানের জবাবে মাত্র ১৫২ রানেই গুটিয়ে যায় আফগানিস্তানের প্রথম ইনিংস।
এরপর ভারতীয় অধিনায়ক শুভমান গিল কোনও ঝুঁকি না নিয়ে ফলো-অন করানোর সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসেও আফগানিস্তানের অবস্থার বিশেষ পরিবর্তন হয়নি। বরং ভারতীয় স্পিন আক্রমণের সামনে আরও বেশি বিপর্যস্ত দেখায় তাদের। মানব সুথার দ্বিতীয় ইনিংসে একটি উইকেট নিলেও বাকি কাজটা দক্ষতার সঙ্গে সামলান কুলদীপ যাদব ও ওয়াশিংটন সুন্দর। কুলদীপ ৩টি এবং সুন্দর ৪টি উইকেট নিয়ে আফগানদের দ্বিতীয় ইনিংস দ্রুত শেষ করে দেন।
আফগানিস্তানের ব্যাটিং পারফরম্যান্স এই ম্যাচে হতাশাজনকই ছিল। প্রথম ইনিংসে ওপেনার সিদ্দিকুল্লা অটল ৪২ রান করে কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করেছিলেন। রহমানুল্লা গুরবাজও ২৪ রান করেন। কিন্তু দলের অন্য ব্যাটারদের মধ্যে প্রয়োজনীয় ধৈর্য বা লড়াইয়ের মানসিকতা দেখা যায়নি। বিশেষ করে বিশাল রানের চাপে পড়ার পরও প্রতিরোধ গড়ে তোলার যে মানসিক দৃঢ়তা দরকার, তার অভাব স্পষ্ট ছিল।
শুধু ব্যাটিং ব্যর্থতাই নয়, ম্যাচে আফগানিস্তানের কৌশলগত দুর্বলতাও চোখে পড়ে। কয়েকটি ভুল ডিআরএস সিদ্ধান্ত তাদের অবস্থাকে আরও কঠিন করে তোলে। পাশাপাশি মাঠে ইতিবাচক মনোভাবের অভাবও স্পষ্ট ছিল। বিপরীতে ভারতীয় দল প্রতিটি বিভাগে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।
সব মিলিয়ে এই টেস্ট ভারতের জন্য ছিল একেবারে নিখুঁত ম্যাচ। ব্যাটিং, বোলিং এবং নেতৃত্ব—সব ক্ষেত্রেই সাফল্য পেয়েছে দল। তবে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি নিঃসন্দেহে মানব সুথার। অভিষেক টেস্টেই যেভাবে তিনি নিজের প্রতিভার ঝলক দেখালেন, তাতে ভবিষ্যতে ভারতীয় স্পিন আক্রমণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠার সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলেই মনে করা হচ্ছে।




















