কলকাতা: নয়াদিল্লিতে বিরোধী ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের দিনেই (Saugata Roy)জাতীয় রাজনীতিতে নতুন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়। সোমবার ৮ জুন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি প্রকাশ্যে স্বীকার করে নেন যে, বিজেপির পক্ষ থেকে তাঁকে দলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সেই প্রস্তাব তিনি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।
সংবাদসংস্থা এএনআই-এর ক্যামেরার সামনে সৌগত রায় বলেন, “হ্যাঁ, আমি বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য একটা প্রস্তাব পেয়েছিলাম।” তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন শুরু হয়। কারণ, সাধারণত এ ধরনের রাজনৈতিক যোগাযোগ বা দলবদলের প্রস্তাব নিয়ে নেতারা প্রকাশ্যে খুব কমই মুখ খোলেন। কিন্তু সৌগত রায় কোনো রাখঢাক না করেই অফার পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
আরও দেখুনঃপরমাণু শক্তিতে পাকিস্তানকে টেক্কা! ১৯০টি যুদ্ধাস্ত্রে আরও মজবুত দেশের প্রতিরক্ষা
তবে বিজেপির প্রস্তাব পাওয়ার কথা জানালেও তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, সেই প্রস্তাব গ্রহণ করার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই। তিনি বলেন, “আমি সেই অফার প্রত্যাখ্যান করেছি। যে দলের প্রতীকে লড়াই করে আমি নির্বাচনে জিতেছি, আমি সেই দলেই থাকব।” তাঁর এই মন্তব্যকে রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের দলবদলের ঘটনা নিয়ে জোর আলোচনা চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে সৌগত রায়ের অবস্থান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে তিনি এখনও তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গেই রয়েছেন।
দিল্লিতে ‘ইন্ডি’ জোটের বৈঠকের আবহে করা এই মন্তব্য আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। বিরোধী শিবির বর্তমানে জাতীয় স্তরে নিজেদের ঐক্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে। ঠিক সেই সময় তৃণমূলের একজন শীর্ষ নেতার বিজেপির অফার পাওয়ার দাবি রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনার জন্ম দিয়েছে। যদিও সৌগত রায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে দিয়েছেন এবং জানিয়েছেন যে দলত্যাগের কোনো সম্ভাবনা নেই।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথোপকথনের সময় তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসকে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিকভাবে টার্গেট করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, বিভিন্ন ইস্যুতে দলকে আক্রমণ করার চেষ্টা চলছে এবং বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যেই এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। যদিও তিনি নির্দিষ্ট করে কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবুও তাঁর বক্তব্যে কেন্দ্রীয় শাসক দলের বিরুদ্ধে পরোক্ষ সমালোচনার ইঙ্গিত স্পষ্ট ছিল।
একইসঙ্গে সৌগত রায় বিরোধী ঐক্যের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বিশেষভাবে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর প্রশংসা করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর হওয়া রাজনৈতিক আক্রমণের ঘটনায় কংগ্রেস নেতৃত্ব যেভাবে প্রকাশ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং ঘটনার নিন্দা করেছে, তা বিরোধী ঐক্যের পক্ষে ইতিবাচক বার্তা বহন করে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, সৌগত রায়ের এই মন্তব্য শুধু বিজেপির প্রস্তাব পাওয়ার বিষয়টিকেই সামনে আনেনি, বরং বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। একদিকে তিনি বিজেপির অফার প্রত্যাখ্যান করে দলের প্রতি আনুগত্যের বার্তা দিয়েছেন, অন্যদিকে বিরোধী জোটের শরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার প্রয়োজনীয়তার কথাও পরোক্ষভাবে তুলে ধরেছেন।



















