আসানসোল: আসানসোলে বিয়ের অনুষ্ঠানের নামে চলছিল অবৈধ ধর্মান্তরকরণ। (Asansol)এই ধর্মান্তকরণ চক্রের বিরুদ্ধে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষজন সরাসরি প্রতিরোধ গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ উঠেছে, চক্রটি দরিদ্র হিন্দু পরিবারগুলোকে টাকা, জমি, মুরগি এবং অলৌকিক চিকিৎসার লোভ দেখিয়ে খ্রিস্টধর্মে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করছিল।
স্থানীয় যুবক ও সাধারণ মানুষের তীব্র বিক্ষোভের মুখে চক্রের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করলে তাদের ধাওয়া করে ধরা হয়। ঘটনার পর নিরাপত্তা বাহিনী দ্রুত হস্তক্ষেপ করে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।ঘটনাটি ঘটেছে আসানসোলের একটি পরিচিত বিয়ের হলে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই হলে নিয়মিত অনুষ্ঠানের আড়ালে ধর্মান্তরকরণের কাজ চলছিল।
চক্রের লোকেরা দরিদ্র হিন্দু পরিবারের কাছে গিয়ে প্রলোভন দেখাত কেউ চাকরি বা টাকার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছিল, কেউ বলছিল জমি দেবে, আবার কেউ অসুস্থ ব্যক্তির ‘মিরাকল কিউর’-এর নাম করে ধর্ম পরিবর্তনের প্রস্তাব দিচ্ছিল। অনেক পরিবার প্রথমে এসব লোভে পড়লেও পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় হিন্দু যুবকরা সতর্ক হয়ে ওঠেন।গতকাল সন্ধ্যায় ওই বিয়ের হলে চক্রের সদস্যরা সক্রিয় থাকার খবর পেয়ে স্থানীয় মানুষজন জড়ো হন।
আরও দেখুনঃ শুভেন্দুর নেতৃত্বে দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদদের ‘সিক্রেট মিটিং’
তাঁরা হলে ঢুকে চক্রের লোকেদের মুখোমুখি হয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে চক্রের সদস্যরা পালানোর চেষ্টা করে। স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করে এলাকার মধ্যেই আটকে রাখেন। খবর পেয়ে পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দুইজনকে গ্রেফতার করে। বাকিরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয় বলে জানা গেছে। আরেকজন মহিলা বাসিন্দা জানান, তাঁর পাড়ার এক অসুস্থ বৃদ্ধাকে ‘যিশু চিকিৎসা করবে’ বলে প্রলোভন দেখানো হয়েছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত দুইজনের কাছ থেকে কিছু নথিপত্র ও প্রচার সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে। আসানসোলের পুলিশ আধিকারিক বলেন, “আমরা পুরো ঘটনার তদন্ত করছি। ধর্মান্তরকরণ যদি জোর করে বা প্রলোভন দেখিয়ে করা হয়, তবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই ঘটনা আসানসোলসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অনেকে বলছেন, দরিদ্রতা ও অশিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে ধর্মান্তরকরণের চক্রগুলো দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়।
বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা বেড়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয় হিন্দু সংগঠনগুলো এখন সতর্ক হয়ে উঠেছে। তারা দাবি করছে, প্রশাসন যেন এসব চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেয় এবং দরিদ্র পরিবারগুলোকে সচেতন করার জন্য ক্যাম্পেইন চালায়।রাজনৈতিক মহলেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। বিজেপি নেতারা বলছেন, রাজ্যে সংখ্যালঘু তোষণের কারণে এ ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বেড়েছে। অন্যদিকে, প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে, ধর্মীয় স্বাধীনতা সকলের আছে, কিন্তু প্রলোভন বা প্রতারণার মাধ্যমে ধর্মান্তর একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।




















