ইন্ডিয়া জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক যখন দিল্লিতে চলছে, ঠিক সেই সময়েই রাজধানীতে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ বিক্ষুব্ধ সাংসদদের গোপন বৈঠক। সূত্রের খবর, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সরকারি বাসভবনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, এই বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
জানা গিয়েছে, দিল্লির৯ নম্বর মতিলাল নেহেরু মার্গে অবস্থিত ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনেই বৈঠকে বসেছেন তৃণমূলের একাধিক বিক্ষুব্ধ সাংসদ। দুপুরে সেখানে পৌঁছন শুভেন্দু অধিকারী। তবে তাঁর আগেই তিনটি পৃথক গাড়িতে করে ওই বাসভবনে পৌঁছে যান তৃণমূলের অসন্তুষ্ট সাংসদরা। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতেও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন সদ্য রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেওয়া সুখেন্দু শেখর রায়। সূত্রের দাবি, উপরাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পরই তিনি সরাসরি ভূপেন্দ্র যাদবের বাসভবনে পৌঁছে যান। পদত্যাগের পর থেকেই তাঁর ফোন সুইচ অফ রয়েছে বলেও জানা গিয়েছে। যাওয়ার আগে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তবে তাঁর এই বৈঠকে উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।সূত্রের খবর, এই বৈঠকে সুখেন্দু শেখর রায় ছাড়াও উপস্থিত রয়েছেন শর্মিলা ঠাকুর, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ বসুনিয়া, কালীপদ সোরেন, অরূপ চক্রবর্তী, অসিত মাল, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পার্থ ভৌমিক-সহ একাধিক সাংসদ ও নেতা। এত সংখ্যক সাংসদের একসঙ্গে উপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করছে।
এই বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, এই সাংসদরা কি ভবিষ্যতে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কোনও সংগঠিত অবস্থান নিতে চলেছেন, নাকি সংসদের ভিতরে আলাদা কোনও ব্লক গঠনের পরিকল্পনা করছেন। আবার অনেকে মনে করছেন, বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়টিও এই বৈঠকের অন্যতম উদ্দেশ্য হতে পারে।
অন্যদিকে, ইন্ডিয়া জোটের বৈঠক চলাকালীন এমন একটি বৈঠক হওয়ায় ঘটনাটির রাজনৈতিক তাৎপর্য আরও বেড়ে গিয়েছে। কারণ বিরোধী ঐক্যের বার্তার মাঝেই তৃণমূলের অভ্যন্তরে সম্ভাব্য অসন্তোষের ছবি সামনে আসছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই বৈঠকের পর বিক্ষুব্ধ সাংসদরা কোনও বড় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেন কি না। সুখেন্দু শেখর রায়ের পদত্যাগের পর যদি আরও কোনও সাংসদ একই পথে হাঁটেন, তাহলে তা তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বড় ধাক্কা হতে পারে। ফলে দিল্লির এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের দিকে এখন নজর রয়েছে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতির।




















