ফলতা: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফের বড়সড় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে ফলতার প্রভাবশালী তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানকে (Jahangir Khan)ঘিরে। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকার পর অবশেষে সোমবার (৮ জুন, ২০২৬) ভোরবেলা ভারত-নেপাল সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (এসটিএফ)। জাহাঙ্গীর গ্রেফতার হতেই এলাকার মানুষ শুরু করে জাহাঙ্গীরের অফিসে দক্ষযজ্ঞ। অফিস ভেঙে উদ্ধার হয়েছে বিলাসবহুল শোয়ার ঘর। এলাকার মানুষদের অভিযোগ দিনের পর দিন অফিসের নাম করে কুকর্ম চালাচ্ছিল অভিষেক ঘনিষ্ট এই দুষ্কৃতী।
তদন্তকারী সংস্থার দাবি, তিনি দেশ ছেড়ে পালানোর চেষ্টা করছিলেন। তাঁর গ্রেফতারের খবর সামনে আসতেই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে তাঁর বিলাসবহুল রাজনৈতিক কার্যালয়, বিপুল পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধারের ঘটনা এবং ফলতা কেন্দ্রের বিতর্কিত নির্বাচনী পর্ব।
আরও দেখুনঃ প্রতি ১৮ দিনে একটি করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে চিন: রিপোর্ট
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা এলাকায় জাহাঙ্গীর খানের বেলচিনির প্রধান রাজনৈতিক কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়। সেই সময় যা সামনে আসে, তা নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায় রাজ্য রাজনীতিতে। স্থানীয়দের দাবি, একটি সাধারণ রাজনৈতিক দলের অফিস যেমন হওয়ার কথা, এটি তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। অফিসের ভিতরে পাওয়া যায় একটি রাজকীয় শোয়ার খাট, দামি সোফা, বিলাসবহুল আসবাবপত্র এবং আরামদায়ক ব্যক্তিগত ব্যবহারের নানা সামগ্রী। সমালোচকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক কার্যালয়কে কার্যত ব্যক্তিগত প্রমোদকেন্দ্র বা বিলাসবহুল বিশ্রামাগারে পরিণত করেছিলেন জাহাঙ্গীর খান।
ফলতার ‘পুষ্পা অফিস’ ভাঙতেই সামনে এল চাঞ্চল্যকর তথ্যhttps://t.co/11JgnBYX9e#Falta #JahangirKhan #WestBengalPolitics #BreakingNews pic.twitter.com/t7cd3yoapK
— Kolkata24x7 (@kolkata24x7live) June 8, 2026
তবে বিতর্ক শুধু বিলাসিতাতেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। তদন্ত এবং তল্লাশির সময় ফলতা ও সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় তাঁর ঘনিষ্ঠদের নিয়ন্ত্রণে থাকা একাধিক জায়গা থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণ সামগ্রী উদ্ধার হয় বলে অভিযোগ। উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর মধ্যে ছিল গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ ত্রিপল, শাড়ি, কম্বল এবং বিভিন্ন রেশন সামগ্রী। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও অভিযোগ তোলে যে, সরকারি প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের জন্য বরাদ্দ সামগ্রী সাধারণ মানুষের হাতে না পৌঁছে অন্যত্র মজুত রাখা হয়েছিল।
এরই মধ্যে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ফলতা কেন্দ্রকে ঘিরে একের পর এক বিতর্ক সামনে আসে। ভোটগ্রহণ এবং পুনর্নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নানা অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে ২১ মে অনুষ্ঠিত পুনর্নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে জাহাঙ্গীর খানের হঠাৎ ভোটের লড়াই থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক জল্পনার জন্ম দেয়। কেন তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও সেই সময় স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা সামনে আসেনি।
পুনর্নির্বাচনের পর থেকেই তিনি কার্যত জনসমক্ষে অনুপস্থিত ছিলেন। তদন্তকারী সংস্থাগুলির দাবি, তাঁকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না এবং তিনি আত্মগোপন করেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টও তাঁর গ্রেপ্তারির ওপর থাকা অন্তর্বর্তী আইনি সুরক্ষা বা রক্ষা কবচ প্রত্যাহার করে দেয়। আদালতের সেই সিদ্ধান্তের পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত চাপ আরও বাড়তে থাকে।
অবশেষে সোমবার ভোরে এসটিএফের বিশেষ অভিযানে ভারত-নেপাল সীমান্ত এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, তিনি সীমান্ত পেরিয়ে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। যদিও এই বিষয়ে তাঁর আইনজীবী বা পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।




















