কলকাতা: মেসিকাণ্ডে রাজ্য রাজনীতিতে ক্রমশ চাপ বাড়ছে প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ওপর। সোমবার কলকাতা হাইকোর্ট থেকেও কোনও আইনি স্বস্তি বা রক্ষাকবচ পেলেন না তিনি। গ্রেফতারির আশঙ্কা প্রকাশ করে জরুরি ভিত্তিতে আগাম শুনানির যে আবেদন তিনি করেছিলেন, তা খারিজ করে দিয়েছে আদালত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই ধরনের মামলাকে বাড়তি অগ্রাধিকার দেওয়া যাবে না; যা শুনানি হওয়ার তা নিয়ম মেনেই হবে।
এদিকে, সোমবার সকাল ১১টার মধ্যে অরূপ বিশ্বাসকে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল পুলিশ। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও তিনি থানায় উপস্থিত হননি। দ্বিতীয়বারও হাজিরা এড়ানোর পর প্রাক্তন মন্ত্রীর আইনি সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, তদন্তে সহযোগিতা না করায় আজই প্রাক্তন মন্ত্রীর বাড়িতে তল্লাশি অভিযানে যেতে পারে পুলিশ বাহিনী, যার ফলে তাঁর গ্রেফতারির সম্ভাবনা আরও প্রবল হচ্ছে। (calcutta high court refuses urgent relief to aroop biswas)
আদালতে কী আরজি জানিয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী?
নিজের আইনজীবীর মাধ্যমে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে অরূপ বিশ্বাস আশঙ্কা প্রকাশ করেন, “আমার ভাই ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হয়ে গিয়েছে।” এর পরেই ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “ঘটনার দীর্ঘ ৬ মাস পর কেন আজ আমাকে ডেকে পাঠানো হচ্ছে? আমিও যেকোনো মুহূর্তে গ্রেফতার হতে পারি।” এই যুক্তি দেখিয়েই তিনি আদালতের কাছে দ্রুত শুনানির মাধ্যমে আইনি রক্ষাকবচ চেয়েছিলেন।
ক্রিমিনাল বেঞ্চে যাওয়ার পরামর্শ বিচারপতির
অরূপ বিশ্বাসের এই জরুরি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দেন, আদালতের একটি নির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, “গ্রেফতারির আশঙ্কা থাকলে আগাম জামিনের জন্য সঠিক ক্রিমিনাল বেঞ্চে আবেদন করুন। এখানে কেন?” জরুরি ভিত্তিতে এই মামলা শোনার আর্জি খারিজ করে আদালত স্পষ্ট করে দেয় যে, নিয়মমাফিক তালিকানুসারেই এই মামলার শুনানি সম্ভব।
বাড়িতে নোটিস সেঁটেছিল পুলিশ
তদন্তকারীদের দাবি, এই মেসিকাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রীকে দ্বিতীয়বার সমন পাঠানো হয়েছিল। এমনকি গত রবিবারই পুলিশ কর্তারা সরাসরি তাঁর বাড়িতে গিয়ে দরজায় নোটিস সেঁটে দিয়ে এসেছিলেন। সেখানে সোমবার সকাল ১১টার মধ্যে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজির থাকার কড়া নির্দেশ ছিল। কিন্তু আদালতের রক্ষাকবচ না মেলা এবং খোদ প্রাক্তন মন্ত্রী হাজিরা এড়িয়ে যাওয়ায় এবার পুলিশ প্রশাসন কড়া আইনি পদক্ষেপের দিকেই হাঁটছে বলে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে৷




















