কলকাতা: মেসি কাণ্ডে প্রাক্তন ক্রীড়া মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের নামে দক্ষিণ বিধাননগর থানায় FIR হয়েছিল (Arup Biswas)। এর আগেও একবার তিনি হাজিরা দিতে যাননি। আজ সোমবার ফের হাজিরা দিতে যাওয়ার কথা ছিল অরূপ বিশ্বাসের। তবে সময় পার হয়ে গেলেও আজ তিনি এখনও থানায় পৌঁছননি বলেও জানা গিয়েছে। আজ অবশ্য তিনি ফের হাইকোর্টে রক্ষা কবচের আবেদন করেছিলেন। তবে হাইকোর্ট স্পষ্ট জরুরি ভিত্তিতে এই আবেদনের শুনানিতে না করে দিয়েছে।
যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির ‘GOAT India Tour 2025’ অনুষ্ঠানকে ঘিরে শুরু হয় বিতর্ক। টিকিট কালোবাজারি, তোলাবাজি এবং অনুষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় বিধাননগর দক্ষিণ থানার তলব উপেক্ষা করেছেন তিনি। সোমবার সকাল ১১টার নির্ধারিত সময়েও তিনি থানায় হাজির না হওয়ায় তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ মোড় নিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
আরও দেখুনঃ রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৩০ মে ২০২৬ তারিখে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর দায়ের হয়। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে অনুষ্ঠিত লিওনেল মেসির ‘GOAT India Tour 2025’ অনুষ্ঠান। ওই অনুষ্ঠানে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা, ভিআইপি সংস্কৃতির অভিযোগ এবং সাধারণ দর্শকদের ক্ষোভের জেরে স্টেডিয়ামে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে সেই ঘটনার তদন্ত চললেও রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন করে সামনে আসে একাধিক গুরুতর অভিযোগ।
মামলার অন্যতম অভিযোগকারী ও অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক শতদ্রু দত্ত দাবি করেছেন, অনুষ্ঠান উপলক্ষে প্রায় ২২ হাজার টিকিট জোর করে নেওয়া হয়েছিল এবং পরে সেগুলির একটি বড় অংশ কালোবাজারিতে বিক্রি করা হয়। তাঁর অভিযোগ, এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে অরূপ বিশ্বাসের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। শতদ্রু দত্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করার পরই পুলিশ বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের স্বার্থে প্রথম দফায় ৪ থেকে ৫ জুনের মধ্যে অরূপ বিশ্বাসকে থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পুলিশের কাছে দুই সপ্তাহ সময় প্রার্থনা করেন। যদিও সেই আবেদনের সঙ্গে কোনো মেডিকেল সার্টিফিকেট বা চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি জমা দেওয়া হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে দাবি। ফলে তদন্তকারী কর্মকর্তারা তাঁর আবেদন গ্রহণ করেননি।
এরপর নতুন নোটিস পাঠিয়ে স্পষ্টভাবে জানানো হয় যে, ৮ জুন সকাল ১১টার মধ্যে বিধাননগর দক্ষিণ থানায় তাঁকে উপস্থিত হতে হবে। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিক্রম করেও তিনি থানায় পৌঁছননি। তাঁর অনুপস্থিতি ঘিরে জল্পনা বাড়তে শুরু করেছে। তদন্তকারী সংস্থার একাংশ মনে করছে, ভবিষ্যতে আইনি পদক্ষেপের প্রশ্নও সামনে আসতে পারে, যদিও এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এরই মধ্যে গ্রেফতারি আশঙ্কায় অরূপ বিশ্বাস কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। তাঁর আইনজীবী বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে জরুরি ভিত্তিতে মামলার শুনানি এবং এফআইআর বাতিলের আবেদন জানান। আদালতে দাবি করা হয়, মামলাটির কারণে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তবে হাইকোর্ট জরুরি ভিত্তিতে সেই আবেদন গ্রহণ করতে অস্বীকার করে। আদালত জানিয়ে দেয়, বিষয়টি নিয়মিত পদ্ধতিতেই শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করতে হবে। ফলে আদালত থেকে তিনি কোনো অন্তর্বর্তী রক্ষা কবচ বা আইনি স্বস্তি পাননি।




















