কলকাতা: দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে সামরিক ও পরমাণু শক্তির ভারসাম্য নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। স্টকহোম ইন্টারন্যাশনাল পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (SIPRI)-এর ২০২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্টে জানা গিয়েছে, পরমাণু অস্ত্রভান্ডারের দৌড়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে দিয়েছে ভারত। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের পরমাণু অস্ত্রের (Warheads) সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯০-এ, যেখানে পাকিস্তানের ভান্ডারে রয়েছে ১৭০টি পরমাণু অস্ত্র। অর্থাৎ, পরমাণু শক্তির নিরিখে এই মুহূর্তে পাকিস্তান থেকে অন্তত ২০টি যুদ্ধাস্ত্রে এগিয়ে রয়েছে ভারত। (India Widens Nuclear Lead Over Pakistan)
বিশ্বের সামরিক ব্যয়, অস্ত্র হস্তান্তর, পরমাণু শক্তি এবং প্রধান প্রধান নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, বিগত ২০২৫ সাল জুড়ে দুই প্রতিবেশী দেশই নিজেদের পরমাণু সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকীকরণের কাজ নিরবচ্ছিন্নভাবে চালিয়ে গিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, “গত এক দশকে ভারতের পরমাণু পরিকল্পনায় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার ওপর অনেক বেশি জোর দেওয়া হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য মূলত চিন। তবে ভারতের এই সামরিক কৌশল এখনও তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সামরিক গতিবিধির দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত।” সিপরির মতে, বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ায় সামরিক প্রতিযোগিতার রূপরেখা বদলে দিচ্ছে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, সশস্ত্র ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত যুদ্ধাস্ত্র এবং সাইবার ক্ষমতা৷
পরমাণু অস্ত্রের সংখ্যার পাশাপাশি দুই দেশের প্রতিরক্ষা বাজেট এবং অস্ত্র আমদানির ক্ষেত্রেও এক বিশাল ব্যবধান ধরা পড়েছে এই রিপোর্টে। ২০২৫ সালে সামরিক ব্যয়ের নিরিখে ভারত বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম দেশ হিসেবে নিজের স্থান ধরে রেখেছে। গত বছর ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে খরচ হয়েছে ৯২.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা তার আগের বছরের তুলনায় ৮.৯ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে, বিশ্বের শীর্ষ ১৫টি সামরিক ব্যয়কারী দেশের তালিকায় পাকিস্তানের কোনও নামই নেই।
একইভাবে, ২০২১-২৫ সালের খতিয়ান অনুযায়ী, ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র আমদানিকারক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা সমগ্র বিশ্বের মোট অস্ত্র আমদানির ৮.২ শতাংশ। এর বিপরীতে পাকিস্তান রয়েছে পঞ্চম স্থানে (৪.২ শতাংশ)। সহজ কথায়, এই সময়কালের মধ্যে পাকিস্তানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ পরিমাণ প্রধান যুদ্ধাস্ত্র আমদানি করেছে ভারত।
রিপোর্টে আরও একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়ের অবতারণা করা হয়েছে৷ গত বছর পহেলগাঁও-এ হওয়া জঙ্গি হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা এক নজিরবিহীন স্তরে পৌঁছেছিল। সেই হামলার জবাবে ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে একটি বড়সড় সামরিক অভিযান শুরু করে। সিপরির রিপোর্টে এই অভিযানটিকে দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশীর মধ্যে একটি “অস্বাভাবিক রকমের তীব্র সামরিক সংকট” হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই সংযঘাতের সময়েই ভারত ও পাকিস্তান ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সক্রিয় সামরিক লড়াইয়ের পাশাপাশি একে অপরের বিরুদ্ধে সাইবার অপারেশনকেও হাতিয়ার করেছিল, যা আধুনিক যুদ্ধরীতির ক্ষেত্রে এক নতুন ও বিপজ্জনক প্রবণতা।



















