কলকাতা: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর আওতাভুক্ত হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। এই বিষয়ে সোমবার দেশের রাজধানী দিল্লিতে কেন্দ্রের ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি (NHA)-র সঙ্গে একটি ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারক বা ‘মউ’ (MoU) স্বাক্ষর করতে চলেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার উপস্থিতিতে এই হাই-প্রোফাইল চুক্তিটি সম্পাদিত হতে চলেছে। এই সংযুক্তিকরণের ফলে বাংলার কোটি কোটি মানুষের নিখরচায় বিশ্বমানের চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে যাবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ১ কোটি ৪৬ লক্ষ পরিবার সরাসরি আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। এই যোজনার অধীনে তালিকাভুক্ত পরিবারগুলি প্রতি বছর সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সম্পূর্ণ ক্যাশলেস অর্থাৎ নগদহীন চিকিৎসার সুযোগ পাবেন। তবে আপনি এই কার্ড পাওয়ার যোগ্য কি না, তা আবেদনপত্র বা ফর্ম পূরণের সময়েই যাচাই করে নেওয়া হবে। প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনার পর সাধারণ মানুষ অত্যন্ত সহজে, ঘরে বসেই মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা পরীক্ষা করে নিতে পারবেন।
যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য উপভোক্তাদের প্রথমে আয়ুষ্মান ভারতের নিজস্ব সরকারি পোর্টালে যেতে হবে। সেখানে স্ক্রিনের ডানদিকের ওপরে থাকা ‘আমি কি যোগ্য’ (Am I Eligible) বিকল্পে ক্লিক করে নিজের সচল মোবাইল নম্বর এবং ওটিপি (OTP) দিয়ে লগইন করতে হবে। পরবর্তী ধাপে নিজের রাজ্য, জেলা, ডিজিটাল রেশন কার্ড নম্বর কিংবা পরিবারের কোনও সদস্যের নাম এবং পরিচয়পত্র নম্বর দিয়ে ক্যাপচা কোডটি সাবমিট করলেই স্ক্রিনে যোগ্য সদস্যদের নাম ভেসে উঠবে। পরিচয়পত্র যাচাইকরণের মাধ্যমেই এই পুরো ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হবে।
এদিকে রাজ্যের নিজস্ব ‘স্বাস্থ্যসাথী’ কার্ড থাকা সত্ত্বেও আয়ুষ্মান কার্ড মিলবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা এক প্রকার দূর করেছেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, বর্তমানে রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকা প্রায় ৬ কোটিরও বেশি কার্ড হোল্ডারকে সরাসরি আয়ুষ্মান ভারত যোজনার অধীনে নিয়ে আসা হবে। পরবর্তীতে এই উপভোক্তার সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। পাশাপাশি, যাঁদের এখনও পর্যন্ত কোনও স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নেই, তাঁরাও এই কেন্দ্রীয় প্রকল্পের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাবেন। এই নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, কেবল রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দারাই নন, শিক্ষা বা জীবিকার তাগিদে ভিন রাজ্যে থাকা বাংলার মানুষও এই কার্ডের মাধ্যমে দেশের যেকোনো তালিকাভুক্ত হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা করাতে পারবেন।




















